উদ্দীপকে হলো অণুচক্রিকা। অণুচক্রিকা রক্ত তঞ্চনে সহায়তা করে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
অণুচক্রিকার রক্ত তখন কাজটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রক্ত তঞ্চন বা রক্তপড়া বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া ১৩টি ফ্যাক্টরের সমন্বয়ে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। রক্ত প্রবাহ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া সকলের ক্ষেত্রে একই। রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে উপাদানগুলো মূল ভূমিকা পালন করে সেগুলো হলো- প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন, ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca-) ও থ্রম্বোপ্লাস্টিন বা থ্রম্বোকাইনেজ। প্রথমত রক্তে হেপারিন থাকায় রক্তপ্রবাহে বস্তু জমাট বাঁধতে পারে না। কিন্তু যখনই রক্তপাত হয়, তখন ঐ কাটা স্থান বা ভাঙা অণুচক্রিকা থেকে থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক এনজাইম বের হয়। অতঃপর থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্ত রসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোথ্রম্বিন এর সাথে বিক্রিয়া করে সক্রিয় প্রম্বিন উৎপন্ন করে। প্রধিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন নামক প্লাজমা প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন নামক সূত্রের সৃষ্টি করে। সূত্রগুলো পরস্পরের সাথে মিলে জালকের আকার ধারণ করে। সবশেষে ফাইব্রিন জালকে লোহিত কণিকাগুলো আটকে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ লিমোনারি বন্ধ হয় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়।