উদ্দীপকের শেষ লাইনে অ্যানজাইনা হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ তা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো- কোনো কারণে করোনারি ধমনি দ্বারা হূৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে বা সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেলে বুকে এক ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়। একে অ্যানজাইনা বা অ্যানজাইনা পেকটোরিস বলে। একে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাবস্থা মনে করা হয়। করোনারি ধমনির ভেতর উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল জমে ধমনির অভ্যন্তরে গহ্বর বন্ধ হয়ে যায়। এতে হৃৎপেশিতে O2 ও পুষ্টি পদার্থ সরবরাহ বন্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু দেহে অবিরাম রক্ত সরবরাহের জন্য হৎপেশিগুলোকে কর্মক্ষম থাকতে হয়। এসময় হৃৎপেশিগুলো বিকল্প পথ ধরে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় পাইরুভিক এসিড থেকে শক্তি উৎপন্নের সময় উপজাত হিসেবে ল্যাকটিক এসিড হৃৎপেশিতে জমা করে এবং বুকে ব্যথার সৃষ্টির করে। মূলত হার্টঅ্যাটাকে করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল জমে ব্লকেজের পরিমাণ বেড়ে শতভাগ হয়ে যায় এবং ধর্মনিপথে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আসে, তখন পর্যাপ্ত O2 সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহের অভাবে কার্ডিয়াক পেশিগুলো অকার্যকর হয়ে কিংবা মরে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক নামক সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বুকে তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া প্রচুর ঘাম বা শীতল ঘাম হয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে অস্থিত অ্যানজাইনা অর্থাৎ বিশ্রামের সময় বুকে ব্যথা অনুভব করেন, যা মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে এবং অনেক সময়ব্যাপী প্ৰচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরবর্তীতে যা হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি করে। উপরের বিশ্লেষণে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকের শেষের লাইনটি যথার্থ।