উদ্দীপকের সমস্যাটি হলো Myocardial Infraction (MI) অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক। নিচে হার্ট অ্যাটাক সৃষ্টির কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা কর হলো:
হৃদপেশির সুস্থতার জন্য ক্রমাগতভাবে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ জরুরি। করোনারি ধমণির মাধ্যমে অক্সিজেন-রক্ত পেশিতে পৌছায়। চর্বি জাতীয় পদার্থ, ক্যালসিয়াম প্রোটিন প্রভূতি করোনারি ধমনির অন্তর্গাত্রে জমা হয়ে বিভিন্ন আকৃতির প্লাক গঠন করে। একে করোনারি অ্যাথেরোমা বলে। প্লাকের বহির্ভাগ ক্রমশ শক্ত হয়ে উঠে। এভাবে প্লাক শক্ত হয়। অণুচক্রিকা জমা হয়ে প্লাকের চতুর্দিকে তখন রক্ত জমাট বাধাতে শুরু করে। রক্ত জমাট বাধার কারণে করোনারি ধমনির লুমেন (গহ্বর) সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে হৃদপেশি ধ্বংস হয় বা মরে যায় এবং মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রচলিত ভাষায় একেই হার্ট আটাক বলা হয়।
চিকিৎসা: হার্টের রক্তনালির রক্ত চলাচল পুনঃপ্রতিস্থাপন করাই এর প্রধান চিকিৎসা। যতদ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা যায়, রোগীর সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা তত বেশি ও দ্রুত হয়। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো-
১. এনজিওপ্লাস্টি : বড় ধরনের অস্রোপচার না করে হৃৎপিণ্ডের সংকীর্ণ লুমেন (গহ্বর) যুক্ত বা রুদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত লুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে। এনজিওপ্লাস্টর উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া লুমেনের ভিতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা ।
২. পেসমেকার স্থাপন: মানুষের হৃৎপিন্ডে সাইনে আট্রিয়াল নোড পেসমেকার এটি অকেজো বা অসুস্থ হলে হৃদস্পন্দন সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কম্পিউটারাইজড বৈদ্যুতিক যন্ত্র দেহে স্থাপন করা হয় তাকেও পেসমেকার বলে। অতএব, পেসমেকার দু'ধরনের একটি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশরূপী সাইনো-আাট্রিয়াল নোড যা প্রাকৃতিক পেসমেকার নামে পরিচিত অন্যটি হচ্ছে যান্ত্রিক পেসমেকার, এটি অসুস্থ প্রাকৃতিক পেসমেকারকে নজরদারির মধ্যে রাখে।
৩. ওপেন হার্ট সার্জারি: শল্যচিকিৎসক যখন রোগীর বুক কেটে উম্মুক্ত করে হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন তখন সে প্রক্লিয়াকে ওপেন হার্ট সার্জারি বলে। এটি একটি বড় শল্যচিকিৎসামূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড সংক্রান্ত অনেক জটিল সমস্য ও রোগ মুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অন্য সব চিকিৎসার পরও যদি হৃৎপন্ডে বড় ধরনের সমস্যা থাকে তাহলে ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়া উপায় থাকে না।