ঘ)
উদ্দীপকে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াে কথা বলা হয়েছে।স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রক্তনালির ভিতরে সাধারণত রক্ত তঞ্চন হয় না। কারণ-
- রক্ত অমসৃণ তল বা বিনষ্ট টিস্যুকোষ বা বাতাসের সংস্পর্শে এলে রক্তের অণুচক্রিকা ভেঙ্গে থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি হয়, ফলে রক্ত তঞ্চনের সূত্রপাত ঘটে । কিন্তু রক্তনালির অন্তর্গাত্র মসৃণ হওয়ায় এবং রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে না আসায় অণুচক্রিকা থেকে থ্রম্বোপ্লাস্টিন উৎপন্ন হয় না, ফলে রক্ত তঞ্চনের সূত্রপাতও ঘটেনা । - রক্তনালির ভিতর রক্তের গতি রক্ত তঞ্চনের সহায়ক নয় ।রক্তে হেপারিন নামক একধরনের তঞ্চন নিরোধক পদার্থ বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (anticoagulant) থাকে। হেপারিন রক্তের বেসোফিল ও যোজক টিস্যুর (মাস্টকোষ থেকে নিঃসৃত হয় । হেপারিন প্রোথ্রম্বিন থেকে প্রম্বিনের উৎপাদনে বাধা দিয়ে রক্ত তঞ্চন রোধ করে।
রক্ত তঞ্চনের তাৎপর্য (Significance of Blood Clotting) - দেহের কেনো অংশের রক্তবাহিকা কেটে। সেখান থেকে রক্তপাত হতে থাকে এবং সংবহনতন্ত্রে রক্তের আয়তন কমে যায়। রক্ত প্রাণিদেহে খাদ্যবস্তুর সরবরাহ গ্যাসীয় বস্তুর পরিবহন, রেচন বস্তুর অপসারণ, হরমোন বহন এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করে। তাই দেহে রক্তের পরিমাণ কমে গেলে নানারকম শারীরবৃত্তীয় সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি প্রাণীর মৃত্যুও হতে পারে। বক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া ছিন্ন রক্তবাহিকা থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে সেই সব সম্ভাবনা রোধ করে।