উদ্দীপকের প্রাণীটি মানুষ ও Actinopterygii হলো রুই মাছ। রুই মাছের রক্ত সংবহনতন্ত্র লক্ষ করলে দেখা যায় যে, হৃৎপিণ্ড থেকে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে ফুলকায় যায়। ফুলকায় CO2 ত্যাগের পর রক্ত O2 সমৃদ্ধ হয়। এই রক্ত সমগ্র দেহ পরিভ্রমণপূর্বক কোষে O2 সরবরাহ করে এবং কোষে উৎপন্ন CO2 গ্রহণপূর্বক পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে ।
দেখা যাচ্ছে, রক্ত রুই মাছের সমগ্র দেহ পরিভ্রমণ করতে একবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে। তাই এটাকে এক চক্রীয় সংবহনতন্ত্র বলা হয়। অন্যদিকে, মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র লক্ষ করলে দেখা যায় যে, ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে মানুষের হৃৎপিণ্ড সারা দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে তা হূৎপিণ্ডের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ হয়ে অবশেষে আবার সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডে প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত মহাশিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। আবার হূৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের বাইরে সঞ্চালিত হয়। এভাবে হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
রক্ত মানুষের সমগ্র দেহ পরিভ্রমণ করতে দুইবার হৃৎপিণ্ড অতিক্রম করে। তাই এই তন্ত্রটিকে দ্বিচক্রীয় রক্ত সংবহনতন্ত্র বলা হয়। অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, রুই মাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর।