উদ্দীপকের চিত্র (১, ২ ও ৩) এর সার্বিক অবস্থাটি হলো হার্ট অ্যাটাক। মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন যা হার্ট অ্যাটাক নামে পরিচিত। মায়োকার্ডিয়াল অর্থ হৃদপেশি, আর ইনফার্কশন অর্থ অক্সিজেনের অভাবে দম বন্ধ হওয়া। দীর্ঘ সময় ব্যাপী হৃৎপিণ্ডের কোনো অংশে blood সরবরাহ বন্ধ থাকলে ঐ অংশের পেশিগুলো অকার্যকর হয়ে কিংবা মরে গিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি করে তাকেই সাধারণ ভাষায় হার্ট ম্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বলে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ :
১. বুকের ঠিক মাঝখানে অস্বস্তি হওয়া যা কয়েক মিনিট থাকে, চলে যায় আবার ফিরে আসে। বুকে অসহ্য চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়।
২. এক বা উভয় বাহু, পিঠ, গলা, চোয়াল বা পাকস্থলির উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব ।
৩. বুকে অস্বস্তির সময় ঘন ঘন নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ঘটে।
৪. পাকস্থলিতে অস্বস্তির সঙ্গে বমি-বমি ভাব, বমি হওয়া, হঠাৎ মাথা ঝিমঝিম করা অথবা ঠাণ্ডা ঘাম বেরিয়ে যাওয়া।
৫. ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা, নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্ত বোধ করা।
হার্ট অ্যাটাকের কারণ : হৃৎপিণ্ড থেকে সমগ্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহিত হয়। হৃৎপিণ্ড নিজেই একটি অঙ্গ হওয়ায় এরও রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন হয়। যে রক্তনালি দ্বারা হৃৎপিণ্ড নিজে রক্তের সরবরাহ পেয়ে থাকে তাকে করোনারি ধমনি বলে। করোনারি ধমনি দ্বারা হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের পেশিতে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে পেশির কোষগুলো অক্সিজেন ও শর্করা স্বল্পতায় পড়ে এবং শক্তি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু দেহে অবিরাম রক্ত সরবরাহের জন্য হৃৎপেশিগুলোকে সর্বদা কর্মক্ষম থাকতে হয়। পরিমিত অক্সিজেনের অভাবে হৃৎপেশির কোষগুলো অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিকল্প উৎস পাইরুভিক এসিড থেকে শক্তি উৎপাদন করে। এ সময় উপজাত হিসেবে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়। অধিক পরিমাণ ল্যাকটিক এসিড তৈরি হলে তা পেশিতে জমা হয়, ফলে ব্যথা অনুভূত হয়। হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায় হলো এনজিওপ্লাস্ট যা উদ্দীপকের চিত্রের আলোকে দেখা যাচ্ছে।
এনজিওপ্লাস্ট : বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিণ্ডের সংকীর্ণ লুমেন যুক্ত বা রুদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্থ লুমেন মুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে।করোনারি হৃদরোগের অন্যতম প্রধান রোগ সৃষ্টি হয় করোনারি ধর্মনিতে। ধমনির ভেতর ব্লক সৃষ্টি হলে পর্যাপ্ত O2 সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপেশিতে সংবহিত হতে পারে না। ফলে হার্ট ফেইলিউর ও হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমন মারাত্মক অবস্থা মোকাবিলায় এনজিওপ্লাস্টি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
এনজিওপ্লাস্টি ধরনের চিকিৎসা লুমেন থেকে ব্লক অপসারণ বা হ্রাস করতে পারে এবং শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা উপশম হয়। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমিয়ে জীবন রক্ষায় অবদান রাখে। যেহেতু বুক উন্মুক্ত করতে হয় না সেহেতু কষ্ট, সংক্রমণ ও দীর্ঘকালীন সতর্কতার প্রয়োজন পড়ে না। বেলুন ও স্টেন্ট পদ্ধতি একই সাথে ব্যবহার করলে প্ল্যাক এর পুনরাবির্ভাবের সম্ভাবনা কমে যায়। মাত্র এক থেকে কয়েক ঘণ্টায় জীবন রক্ষাকারী এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।