এক দেহ হতে অন্য দেহে রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তের গ্রুপের মিল থাকতে হয়। উদ্দীপকে "M" এর দেহে রক্তের প্রয়োজন হলে গ্রুপ ম্যাচ না করায় "N" রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও ডাক্তার তার রক্ত নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। রক্তে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে সমগ্র মানবজাতির রক্তকে A, B, AB ও O - এই চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে A গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি B ব্লাড গ্রুপের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দেয়। অনুরূপভাবে, B গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি A গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দেয়। একই কারণে ০ গ্রুপের রক্ত নিজের গ্রুপের রক্ত ছাড়া অন্য ৩টি গ্রুপের রক্তকে জমিয়ে দেয়। শুধু AB গ্রুপের রক্ত অন্য কোন গ্রুপের রক্তকে জমাতে পারে না, কারণ সেখানে কোন অ্যান্টিবডি নেই।
আবার, Rh ফ্যাক্টরের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে যথাক্রমে Rh+ ও Rh- এই দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। Rh- রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তির দেহে Rh+ বিশিষ্ট রক্ত দিলে প্রথমবার গ্রহীতার দেহে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না, কিন্তু গ্রহীতার রক্তরসে ক্রমশ Rh+ অ্যান্টিজেনের বিপরীত অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। গ্রহীতা যদি দ্বিতীয়বার দাতার Rh+ রক্ত গ্রহণ করে তাহলে গ্রহীতার রক্তরসের উক্ত বিপরীত অ্যান্টিবডির প্রভাবে রক্ত জমাট বেঁধে যাবে। কাজেই, উপযুক্ত বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গ্রুপ না মিলিয়ে রক্ত নিলে গ্রহীতার দেহে রক্ত জমাট বেধে গ্রহীতা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। এজন্যই গ্রুপ না মেলায় ডাক্তার "M" এর জন্য "N" এর রক্ত গ্রহণ করেননি।