উদ্দীপকে উল্লিখিত পতঙ্গটির শ্বসন পদ্ধতি রুইমাছের শ্বসন পদ্ধতি হতে ভিন্নতর ব্যাখ্যা করো
উত্তর: উদ্দীপকের উল্লেখিত পতঙ্গটি হলো ঘাসফড়িং যার শ্বসন পদ্ধতি রুই মাছের শ্বসন পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। ঘাসফড়িং হল আর্থোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণীভুক্ত প্রাণী। ট্রাকিয়া নামক এক ধরনের সূক্ষ্ম শ্বাসনালীর শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে ঘাসফড়িং শ্বসন কার্য চালায় । অপরদিকে রুই মাছ কর্ডাটা পর্বভুক্ত মেজর কার্প জাতীয় মাছ। রুই মাছে দুই ধাপে শ্বাসক্রিয়া ঘটে যেখানে ফুলকা প্রকোষ্ঠ চোষক পাম্প হিসেবে কাজ করে। ঘাসফড়িং এর শ্বসন পদ্ধতি - শ্বাসরঞ্জক না থাকায় ঘাস ফড়িং এর রক্ত শ্বসনে তেমন ভূমিকা পালন করতে পারে না। দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জালিকার মত ছড়িয়ে থাকা ট্রাকিয়া ও ট্রাকের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ উভয় প্রক্রিয়া শ্বাসরন্ধ্র দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। পেশির কার্যকারিতায় উদরের ছন্দময় সংকোচন-প্রসারণের ফলে O2 দেহে প্রবেশ করে এবং ট্রাকিয়াল তন্ত্র থেকে CO2 বেরিয়ে আসে। i. শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস : পেশির প্রসারণের খন্ডকগুলো প্রসারিত হলে ট্রাকিয়ার অন্তঃস্থ গহব্বর আয়তনে বৃদ্ধি পায়। এসময় প্রথম চার জোড়া শ্বাসরন্ধ্র খুলে যায় ফলে O 2- যুক্ত বায়ু প্রথমে শ্বাসরন্ধ্রের মাধ্যমে ট্রাকিয়ায় পৌঁছে, পরে সেখান থেকে ট্রাকিওল ও বায়ুথলির মাধ্যমে অন্তঃকোষীয় স্থানে পৌঁছায়। ii. শ্বাস ত্যাগ বা নিঃশ্বাস : শ্বাস ত্যাগ একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। কোষীয় শ্বসনে সৃষ্ট CO2ব্যাপন প্রক্রিয়া ট্রাকিওল রসে আসে এবং সেখান থেকে ট্রাকিয়ায় প্রবেশ করে।সংকোচনের ফলে ট্রাকিয়ার অভ্যন্তরের আয়তন হ্রাস পায়,শ্বাসরন্ধ্র খুলে যায় যার মধ্য দিয়ে ট্রাকিয়া থেকে CO2 সমৃদ্ধ বায়ু দ্রুত বের হয়ে যায। রুই মাছের শ্বসন পদ্ধতি : শ্বাস গ্রহণ বা পানির অন্তঃপ্রবাহ বা প্রশ্বাস এবং শ্বাস:ত্যাগ বা পানির বহিঃপ্রবাহ বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে রুই মাছের শ্বসন কার্য পরিচালিত হয়। হাইপোব্রাঙ্কিয়াল পেশী, হাইওয়েড আর্চ, ফুলকা আর্চ ক্রিয়ার ফলে গলবিল ও মুখগহ্বরে প্রসারণ ঘটে। ফুলকা আর্চ বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং মুখের সামনে অবস্থিত কপাটিকা খুলে যায়। মুখগহ্বরের প্রকোষ্ঠের আয়তন বৃদ্ধি ঘটায় O2 সমৃদ্ধ পানি বাইরের পরিবেশ থেকে মুখছিদ্রের মধ্য দিয়ে মুখবিবর ও গলবিলে প্রবেশ করে ফুলকা প্রকোষ্ঠের ফুলগুলোকে পানি সিক্ত করে। আবার নিঃশ্বাসের সময় মুখগহ্বর ও গলবিলের সংকোচন ক্রিয়ার ফলে পূর্বের প্রসারিত প্রকোষ্ঠ আয়তনে কমে যায় এবং পানির উপর চাপের সৃষ্টি করে।ফলে পানি ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা খুলে বই ফুলকা ছিদ্র পথে বের হয়ে যায়। এ সময় মৌখিক কপাটিকা মুখচিত্র কে বন্ধ করে রাখে বলে ওই পথে পানি বাইরে যেতে পারে না। এভাবে রুই মাছের শ্বসন কার্য সম্পন্ন হয়। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় রুই মাছ ও ঘাসফড়িং এর শ্বসন পদ্ধতি ভিন্নতর।
HSC Biology 2nd Paper Chapter 5 : শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 2nd Paper · Chapter 5 : শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত পতঙ্গটির শ্বসন পদ্ধতি রুইমাছের শ্বসন পদ্ধতি হতে ভ…
উদ্দীপক
Chittagong · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
স্পাইরাকল এট্রিয়াম থেকে ট্রাকিয়া উৎপন্ন হয়। এটি সূক্ষ্ম শাখা প্রশাখা যুক্ত স্থিতিস্থাপক বহি:ত্বকীয়। ট্রাকিয়ার প্রাচীর তিন স্তর বিশিষ্ট । বাইরের এপিডার্মিস গঠিত ভিত্তিঝিল্লি, মাঝখানে চাপা বহুভুজাকার কোষে গঠিত এপিথেলিয়াম এবং ভিতরের কিউটিকল নির্মিত ইন্টিমা। ট্রাকিয়ার অন্তঃস্থ গহবর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হয় এবং এ সময় ইন্টিমা পুরু হয়ে আংটির মত বলয় গঠন করে যার নাম টিনিডিয়া। টিনিডিয়া ট্রাকিয়াকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও রয়েছে তিন জোড়া অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়াল কান্ড, যা দেহের দৈর্ঘ্য বরাবর বিস্তৃত থাকে। এগুলো হলো -
১) দেহের দুপাশে অবস্থিত একজোড়া পার্শ্বীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়াল কান্ড।
২) হূদযন্ত্রের দুপাশে অবস্থিত একজোড়া পৃষ্ঠীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়াল কান্ড।
৩) স্নায়ুরজ্জুর দুপাশে অবস্থিত একজোড়া অঙ্কীয় অনুদৈর্ঘ্য ট্রাকিয়াল কান্ড।
এভাবে একটি ট্রাকিয়াল তন্ত্র গঠিত হয় যা ঘাসফড়িং এর সমগ্র দেহের শ্বসনিক গ্যাস পরিবহন করে।উত্তর