উদ্দীপকে C হলো মস্তিষ্ক এবং প্রক্রিয়াটি দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাস কার্যক্রমকে বুঝানো হয়েছে। এই কার্যক্রমকে মস্তিষ্ক স্নায়ুবিক ও রাসায়নিক এই দুই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে তা উপস্থাপন করা হলো-
১. স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ: পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মেডুলা অবলাংগাটা আমাদের বক্ষ অঞ্চলের প্রশ্বাস নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটিকে বলা হয় শ্বসন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। এই শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের রয়েছে দুটি অংশ যথা নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। স্নায়ুবিক শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের স্নায়ুগুলো করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে ডায়াফ্রাম ও বক্ষপিঞ্জরের সাথে যুক্ত থাকে। আমাদের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের কর্ম উদ্দীপনা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিও বৃদ্ধি পায়। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পেলে অক্সিজেন শোষণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বর্জনের হারও বাড়ে। আমরা যখন বিশ্রামে নেই তখন দেহে অক্সিজেনের চাহিদাও কমে যায়। অর্থাৎ চাহিদা ও যোগানের এই ভারসাম্য ছন্দবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় (প্রতিবর্ত ক্রিয়া) ফিডব্যাক মেকানিজমের মাধ্যমে।
২. রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ : মস্তিষ্কের মেডুলা রক্তের অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্বের প্রতি সংবেদনশীল। রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব বেড়ে গেলে মেডুলার সাথে সংশ্লিষ্ট স্নায়ু বক্ষ পিঞ্জর ও ডায়াফ্রামের পেশিতে সংকেত পাঠায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ে এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমে ও অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে। এইভাবে রাসায়নিক উদ্দীপনার মাধ্যমেও আমাদের দেহের প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।