উদ্দীপকের শেষ লাইন হলো মানুষের শ্বসনতন্ত্রের অনেক অংশ রয়েছে কিন্তু শ্বাসনালী, ফুসফুস এবং মধ্যচ্ছদা বিশেষ ধরনের। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলা-
মানুষের শ্বসনতন্ত্র, নাসিকা, নাসাগলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস, মধ্যচ্ছদা ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। কিন্তু এদের মধ্যে শ্বাসনালী, ফুসফুস এবং মধ্যচ্ছদা বিশেষ ধরনের।
স্বরযন্ত্রের ঠিক পেছনের অংশই শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া। তন্তুময় কলা দিয়ে ট্রাকিয়াল রিং বা বলয় পরস্পর সংযুক্ত থাকে বলে শ্বাসনালি চুপসে যায় না। শ্বাসনালি চুপসে যায় না বলে এর মধ্য দিয়ে সহজেই বায়ু চলাচল করতে পারে। এর অন্তঃপ্রাচীরের মিউকাস আবরণীর সিলিয়া অবস্থিত বস্তুর প্রবেশ রোধ করে।
ফুসফুস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন গ্যাসের বিনিময় ঘটায়। ফুসফুস বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট সংশ্লেষ করে। দেহ হতে শ্বসন বর্জ্য CO₂ নিষ্কাশন করে। এটি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পানিসাম্যতা রক্ষা ও শব্দ সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ফুসফুসীয় কলা সেরোটোনিন ও হিস্টামিন সংরক্ষণ ও বিমুক্ত করে। ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা ও ইন্টারকোস্টাল পেশির যুগপৎ সঙ্কোচনের মাধ্যমে প্রশ্বাস ক্রিয়া শুরু হয় এবং এদের প্রসারণের ফলেই নিঃশ্বাস বা শ্বাসত্যাগ সম্পন্ন হয়।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানুষের শ্বসনতন্ত্রের অনেক অংশ থাকলেও শ্বাননালি, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা বিশেষ ধরনের।