উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িং এর শ্বসনতন্ত্রকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলা হয়। নিচে ঘাসফড়িং এর শ্বসনতন্ত্রের বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. শ্বাসরন্দ্র : ঘাসফড়িং-এর বক্ষদেশে দুইজোড়া এবং উদর অঞ্চলে আটজোড়া অর্থাৎ মোট ১০ জোড়া শ্বাসরন্দ্র অনুদৈর্ঘ্যভাবে অবস্থান করে। রন্দ্রগুলোর মুখে সূক্ষ্ম রোমযুক্ত ছাঁকনি থাকায় ধুলাবালি, জীবাণু, পানি ইত্যাদি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। শ্বাসরন্দ্রগুলো পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কপাটিকার সক্রিয়তায় বদ্ধ ও উন্মুক্ত হয়।
২. শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া: শ্বাসরন্দ্রগুলো দেহমধ্যস্থ অ্যাট্রিয়াম গহ্বর পথে যে স্থিতিস্থাপক, সূক্ষ্মনালিতে উন্মুক্ত হয় তাদের ট্রাকিয়া বলে। ট্রাকিয়াগুলো পরবর্তীতে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে সমগ্র দেহে জালিকাকারে বিন্যস্ত হয়। শাখা-প্রশাখা সৃষ্টিকারী ট্রাকিয়াকে ট্রাকিয়াল কান্ড বলা হয়ে থাকে। ঘাসফড়িং-এর দেহে তিন জোড়া ট্রাকিয়াল কাণ্ড থাকে।
৩. ট্রাকিওল: ট্রাকিয়া থেকে সৃষ্ট অতিসূক্ষ্ম শ্বাসনালিকাকে ট্রাকিওল বলে। ট্রাকিওলের বর্ণ অস্বচ্ছ, প্রাচীর পাতলা এবং অন্তঃপ্রাচীর টিনিডিয়াবিহীন। ট্রাকিওল কোষগুলো তরলে পূর্ণ থাকে। এ তরলের মাধ্যমে দেহকোষে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
৪. বায়ুথলি : ঘাসফড়িং-এর কতকগুলো ট্রাকিয়া প্রসারিত হয়ে পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট বায়ুথলি সৃষ্টি করে। বায়ুথলিতে বাতাস সঞ্চিত থাকে, যা শ্বসনের সময় বায়ু প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।