উদ্দীপকে মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতির মতো একই প্রকৃতির রক্ত সঞ্চালন বিশিষ্ট অপর একটি প্রাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২য় প্রাণীটি হলো মাছ এবং এর প্রধান শ্বসন অঙ্গ হলো ফুলকা। ফুলকা সূক্ষ্মনালিকা ও শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে রক্তে ০₂ এবং CO₂ সরবরাহ করে। কিন্তু মানুষের থেকে এই প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন।
মাছের শ্বসনতন্ত্র ফুলকা, বায়ুথলি ও ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা দিয়ে গঠিত। কিন্তু মানুষের শ্বসনতন্ত্র নাসারন্দ্র, নাসাগহবর, নাসাগলাবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস নিয়ে গঠিত। মাছের দুই জোড়া ফুলকা থাকে। কিন্তু মানুষের এক জোড়া ফুসফুস থাকে। মাছ পানি থেকে O₂ গ্রহণ করে। মাছ মুখ দিয়ে পানি শোষণ করে এবং তা গলবিলের ভেতর দিয়ে ফুলকার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় ০₂ এবং CO₂ গ্যাস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় আদান-প্রদান হয়। অপরদিকে মানুষ বায়ু থেকে O₂ গ্রহণ করে। মানুষের নাসারন্দ্র দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে নাসাগলবিল, শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে অ্যালভিওলাসের মাধ্যমে বায়ু থেকে ০₂ এবং CO₂ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে আদান-প্রদান হয়। এছাড়া মাছের দেহে বায়ুথলি রয়েছে যা শ্বসনে সহায়তা করে। কিন্তু মানুষের দেহে কোনো বায়ুথলি নেই।
গঠনগত পার্থক্য থাকলেও মানুষ ও মাছ উভয়ের শ্বসনতন্ত্রই দেহে ০₂ এবং CO₂ গ্যাস পরিবহন করে থাকে।