উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে বলা হয়েছে "জীব সম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে"
জীবসম্প্রদায় সংরক্ষণের গুরত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অনেক। বিভিন্ন কারণে জীবসম্প্রদায় আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। মানুষের কর্মকাণ্ডই এর মধ্যে প্রধান। বন ধ্বংস ও জলাশয় ভরাট করে কৃষি জমি সম্প্রসারণ, অধিক ফলনের জন্য রাসায়নিক সার, আগাছানাশক, ছত্রাকনাশক প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নগরায়ন, শিল্পায়ন ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অধিক হারে বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক বনভূমি ও জলাভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। প্রাণিকুল তার খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সরাসরি উদ্ভিদকুলের উপর নির্ভরশীল থাকায় বনভূমি ও জলভূমি হ্রাসের সাথে সাথে বহু প্রাণী প্রজাতিও ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা বিপন্ন অবস্থায় আছে। জীব প্রজাতি দ্রুত হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু। ঝড়, টর্নেডো, হ্যারিকেন, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। এসব কারণে মানুষের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। প্রকৃতিতে জীবসম্প্রদায় সঠিকভাবে সংরক্ষিত না হলে বাস্তুতন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ হারাবে তার ভারসাম্যতা। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই জীবসম্প্রদায় সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
এক কথায় বলা যায়, 'জীবসম্প্রদায় রক্ষা না করতে পারলে সারা বিশ্ব । অচিরেই হুমকির মধ্যে পতিত হবে'-বাক্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।