উদ্দীপকের M উদ্ভিদটি হলো সবুজ পরিবেশের উদ্ভিদ ফণিমনসা এবং N হলো লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদ সুন্দরী। নিচে এদের মধ্যে গঠনগত সাদৃশ্য বর্ণনা করা হলো-
ফণিমনসা ও সুন্দরী উভয় উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতা রসালো হয়। কারণ মরুজ ও লবণাক্ত উভয় পরিবেশে পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে উদ্ভিদগুলো প্যারেনকাইমা কোষের মাধ্যমে পানি সঞ্চয় করে রাখে। দেহে পানি ধরে রাখার জন্য উভয় উদ্ভিদেরই প্রস্বেদন কম হয়।
মরুজ পরিবেশের পানি সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য ফণিমনসা উদ্ভিদের মূল মাটির উপরিতলের কাছাকাছি অথবা খুবই গভীরে প্রলম্বিত হয়। অন্যদিকে লবণাক্ততা সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য সুন্দরী গাছের মূলতন্ত্র মাটির গভীরে না গিয়ে মাটির উপরের স্তরেই বিস্তৃত থাকে।
উভয় পরিবেশের অভিযোজনের জন্য এ উদ্ভিদদ্বয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- ফনিমনসার ক্ষেত্রে প্রচুর শাখা-প্রশাখাযুক্ত প্রধান মূলতন্ত্র; রাইজোম, কাঁটায় রূপান্তরিত কান্ড, ছোট, মসৃণ ও উজ্জ্বল কন্টকে রূপান্তরিত পাতা। আবার লবণাক্ত পরিবেশের সুন্দরী উদ্ভিদে বায়বীয় মূল বা শ্বাসমূল, পুরু, রসালো, মসৃণ ও চকচকে পাতা ইত্যাদি।
পরিশেষে, উপরের বর্ণনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের M ও N উদ্ভিদের মধ্যে যথেষ্ঠ গঠনগত সাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে যা মূলত অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ।