উদ্দীপকে উল্লেখিত বনাঞ্চল দুটির একটি হলো কুমিল্লার ময়নামতি যা শালবন বিহার নামে পরিচিত। একে পত্রঝরা বনও বলা হয়। অন্যটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পৃথিবীর ঐতিহ্য সুন্দরবন। একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়। নিচে বনাঞ্চল দুটির তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো-
পত্রঝরা বনে অধিকাংশ উদ্ভিদ পর্ণমোচী হয়, শীতকালে এদের পাতা ঝরে যায়। অপরদিকে ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ মাঝারি উচ্চতার এবং চিরসবুজ। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বনের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে সিক্ত হয় কিন্তু শালবন উঁচু অঞ্চলে হওয়ায় জোয়ারের পানিতে সিক্ত হয় না। শালবনের মাটি লাল, অম্লীয়, শীতকালে শুষ্ক এবং বর্ষাকালে কর্দমাক্ত থাকে, কিন্তু ম্যানগ্রোভ বনের মাটি ধূসর বা গাঢ় ধূসর, ক্ষারীয় হয় এবং মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে। আবার শালবন উঁচু, নিচু অংশে বিভক্ত যাকে চালা ও বাইদ বলে, কিন্তু ম্যানগ্রোভ বন অসংখ্য নদী-উপনদী ও চ্যানেল দ্বারা ছোট ছোট অংশে বিভক্ত থাকে। বিশেষ করে শালবনে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৫ সে.মি. থেকে ১৭৫ সে.মি. পর্যন্ত হয়; বিপরীত দিকে ম্যানগ্রোভ বনে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ সে.মি. পর্যন্ত হয়। এছাড়াও ম্যানগ্রোভ বনে উদ্ভিদের অভিযোজনের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য শ্বাসমূল, ঠেসমূল ও স্তন্তমূল ইত্যাদি দেখা যায় কিন্তু শালবনের উদ্ভিদে এসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না। শালবনের বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকে যেখানে ম্যানগ্রোভ বনের বাতাসে বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। অতএব উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় উদ্দীপকের বনাঞ্চল দুটির মধ্যে বৈশিষ্ট্যমূলক যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।