চিত্রে প্রদর্শিত 'ক' বৈশিষ্ট্যটি হলো শ্বাসমূল এবং প্রদর্শিত 'খ' বৈশিষ্ট্যটি হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম। এ ধরনের অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যের কারণ নিচে দেওয়া হলো-
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাটি লবণাক্ত, কর্দমাক্ত ও জলাবদ্ধ। এছাড়া প্রাত্যহিক জোয়ার-ভাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশীয় নিয়ামক। এগুলো প্রত্যেকটিই সাধারণ গাছপালার জন্য প্রতিকূল। এ প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য শ্বাসমূল এখানকার গাছপালার জন্য একটি অন্যতম অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য। মাটিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব থাকায় অনেক গাছের মাটির নিচের সমান্তরালভাবে বিস্তৃত মূল হতে খাড়াভাবে শ্বাসমূল বা নিউমেটাফোর উপরে উঠে আসে। শ্বাসমূলে বায়ুছিদ্র এবং ভিতরে বায়ুকুঠুরি থাকে। এরা গ্যাসীয় আদান-প্রদানে সাহায্য করে। এজন্যই শ্বাসমূল ম্যানগ্রোভ বনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। জোয়ার-ভাটার টানে বীজ ভেসে যায় বলে কিছু কিছু গাছে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়। ফলে গাছে থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদম হয় এবং মূল বড় ও ভারী হলে ফলটি মাটিতে পড়ে। বোরা, খলসি, হারগোজা প্রভৃতি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়। সুন্দরি ও গেওয়া গাছের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয় না।
অতএব, উল্লেখিত কারণেই ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ শ্বাস মূল এবং জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমন নামক অভিযোজিত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।