“উদ্দীপকের বনভূমির জীববৈচিত্র্য এক্সসিটু অপেক্ষা ইনসিটু পদ্ধতিতে সহজেই সংরক্ষণ করা যায়" – যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত বনভূমি টি হলো সুন্দরবন। এই বনের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ২টি স্বীকৃত পধতি গ্রহণ করা যেতে পারে । জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিসমূহ : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রধানত দু'প্রকার, যথা- (ক) ইন-সিটু সংরক্ষণ এবং (খ) এক্স-সিটু সংরক্ষণ । (ক) প্রাকৃতিক বাসস্থানে সংরক্ষণ বা ইন-সিটু সংরক্ষণ (In situ conservation) : মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে বলা হয় ইন-সিটু সংরক্ষণ। যেমন সুন্দরবনের কর্দমাক্ত, লবণাক্ত ও সিক্ত পরিবেশে সুন্দরী গাছ জন্মে থাকে। কাজেই সুন্দরী গাছকে সুন্দরবনের মূল বাসস্থান তথা ঐ পরিবেশতন্ত্রে সংরক্ষণ করাই হলো ইন-সিটু সংরক্ষণ বা স্বস্থানে সংরক্ষণ । এক্ষেত্রে প্রাপ্ত সুবিধা সমূহ (i) কোনো প্রজাতি সংরক্ষণের সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো যে বাসস্থানে ইহা প্রাকৃতিকভাবে জন্মে সেই বাসস্থানকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। এর ফলে উক্ত প্রজাতির সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রাণিকূলও সংরক্ষিত হয়। (ii) অনেক উদ্ভিদ তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে তাদের মাইকোরাইজাল ছত্রাকের উপর নির্ভরশীল। ইন- সিটু সংরক্ষণের ফলে মাইকোরাইজাল ছত্রাকও সংরক্ষিত হয় এবং ঐ উদ্ভিদের টিকে থাকা নিশ্চিত হয়। (iii) একটি প্রজাতি বা একটি উদ্ভিদ কেবলমাত্র একটি ইকোসিস্টেমের অংশই নয়, বিভিন্নভাবে আশপাশের অন্যান্য প্রজাতির সাথে ক্রিয়া-বিক্রিয়া করে এবং অনেক প্রজাতিকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। ইন-সিটু সংরক্ষণে এ সুবিধা থাকে। (iv) কোনো প্রজাতিকে তার বাসস্থানে সংরক্ষণের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো এই যে এতে করে বিবর্তনীয় প্রক্রিয়াগুলো চালু থাকে। (v) যে দেশ বা অঞ্চলে ফ্লোরা এখনো ভালোভাবে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি অথবা বিশদভাবে স্টাডি করা সম্ভব হয়নি সে দেশ বা সে অঞ্চলে ইন-সিটু সংরক্ষণ আবশ্যক। অনেক দেশেই সংকটাপন্ন প্রজাতির তালিকা প্রস্তুত সম্পন্ন হয়নি, সেসব দেশে এক্স-সিটু অবস্থানে কোন কোন প্রজাতি সংরক্ষণ করতে হবে তাও সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়নি, কাজেই ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ করা তথা ইন-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতিই সেখানে আদর্শ সংরক্ষণ পদ্ধতি। (vi) যে অঞ্চলে এখনো অনেক প্রজাতি অনাবিষ্কৃত রয়েছে সে অঞ্চলেও ইন-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতি আবশ্যক। (vii) রিক্যালসিস্টান্ট বীজ সংরক্ষণের জন্য ইন-সিটু পদ্ধতি বিশেষভাবে উপযোগী। ( খ) কৃত্রিম বাসস্থানে সংরক্ষণ বা এক্স-সিটু সংরক্ষণ : বায়োডাইভারসিটির উপাদানসমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো এক্স-সিটু সংরক্ষণ। যেমন সিলেট বনের আগর গাছকে বা সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হলো এক্স-সিটু সংরক্ষণ এর একটি উদাহরণ। নিম্নলিখিত উপায়ে এক্স-সিটু সংরক্ষণ করা হয়। (১) উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেন । (২) বীজ ব্যাংক। ৩ । ফিল্ড জিন ব্যাংক : ফিল্ড জিন ব্যাংকের মাধ্যমে রিক্যালসিস্টান্ট বীজবাহী উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা সম্ভব। ৪। জিন ব্যাংক : উদ্ভিদের জিন তত্ত্বের সম্পদগুলোকে সংরক্ষণে সংরক্ষিত উদ্ভিদ নমুনাগুলোকে সময়ে সময়ে জন্মানো হয় এবং এ থেকে নতুন বীজ উৎপন্ন করে সংরক্ষণ করা হয়। ৫। চিড়িয়াখানা । ৬। নিম্নতাপমাত্রায় সংরক্ষণ: অঙ্গজ বংশবিস্তারে সক্ষম এমন অনেক ফসলের অঙ্গজ অংশ (যেমন-রাইজোম, বাল্ব, টিউবার, করম) সাধারণত অল্প জীবনকাল সম্পন্ন এবং দ্রুত বিনষ্ট হয়ে যায়, যদি না এদেরকে উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। ৭। ইন-ভিট্রো সংরক্ষণ : ইন-ভিট্রো উপায়ে ল্যাবরেটরিতে রিক্যালসিস্টান্ট প্রজাতির ক্যালাস (callus) টিস্যু সংরক্ষণ করা যায় বা তরল আবাদ মাধ্যমেও সংরক্ষণ করা যায়। ৮। ডিএনএ সংরক্ষণ : উদ্ভিদ থেকে DNA আহরণ করে তা সংরক্ষণ করা হয়। DNA সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত জিন সংরক্ষণ করা যায় । উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলাযায় যে এক্স-সিটু সংরক্ষণ তুলনা মূলক ব্যয় বহুল এবং সময় সাধ্য। সেই তুলনায় এখনো অনেক প্রজাতি অনাবিষ্কৃত রয়েছে সুন্দরবন অঞ্চলে । তাই বলা যায় সুন্দরবন অঞ্চলে ইন-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতি আবশ্যক এবং সহজলভ্য।
HSC Biology 1st Paper Chapter 12: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 12: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ · সৃজনশীল
“উদ্দীপকের বনভূমির জীববৈচিত্র্য এক্সসিটু অপেক্ষা ইনসিটু পদ্ধতিতে সহ…
উদ্দীপক
Rajshahi · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর