উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' প্রাণীটি 'ঘড়িয়াল' যা ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
বনভূমি: ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে ৪ ধরনের বনভূমি দেখতে পাওয়া যায়, যথা-(১) গ্রীষ্মমন্ডলীয় বারিবন (২) পাতাঝরা বনভূমি (৩) গ্রীষ্মমন্ডলীয় = তৃণভূমি এবং (৪) ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। গ্রীষ্মমন্ডলীয় বারিবনের গাছগুলো - লতা, চওড়া পাতাবিশিষ্ট চির সবুজ। প্রধানত মালয়ান ও সিলোনিজ উপাঞ্চলে এ বনভূমি রয়েছে। চিরসবুজ অরণ্য সৃষ্টিকারী গাছগুলো হলো জলপাই, কঁঠাল, জাম ইত্যাদি। ভারত, ইন্দোনেশিয়া-চীন ও মায়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে পাতাঝরা বনভূমি। শাল, পলাকা, কড়ই প্রভৃতি এ বনভূমির প্রধান গাছ। ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে সামান্য তৃণভূমির বিস্তৃতি দেখা যায় ভারত, মায়ানমার ও ইন্দোচীনে। এখানকার ঘাসগুলো ছোট আকৃতির এবং অসংখ্য ঝোপ-ঝাড় ও বৃক্ষ সমন্বিত। সমুদ্র উপকূল জুড়ে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সুন্দরী, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনভূমির প্রধান উদ্ভিদ।
প্রাণী: ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে বহু ধরনের মেরুদন্ডী প্রাণী পাওয়া যায়। তবে এন্ডোমিক প্রাণীর সংখ্যাও যথেষ্ট। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, শিয়াল, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য, পাখির মধ্যে ময়ূর, দোয়েল, চিল, শালিক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মিঠা পানির মাছের মধ্যে বাইন, পাবদা, টাকি, রুই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উভচর প্রাণীর মধ্যে কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ, গেছোব্যাঙ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সরীসৃপের মধ্যে গোখরা, কুমির, ঘড়িয়াল, গুইসাপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।