উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ ফুলকা। মাছের রক্ত সংবহনে ফুলকার ভুমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
মাছের রক্তসংবহন একচক্রী। মাছের হূৎপিণ্ড থেকে CO2 যুক্ত রক্ত অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনির মাধ্যমে ফুলকায় যায়। সেখানে ব্যাপন প্রক্রিয়ার গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। অতঃপর O2 যুক্ত রক্ত বহিবাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি দ্বারা দেহকোষে পৌছায়। দেহে বিপাকীয় কাজে উৎপন্ন CO2 যুক্ত রক্ত শিরাতন্ত্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে রক্ত একটি চক্রে আবর্তিত হয় এবং কেবল CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে। মাছের রক্ত সংবহনে ভেন্ট্রাল অ্যাওটা থেকে মোট ৪ জোড়া অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি উৎপন্ন হয়ে উভয় পাশের ৪ জোড়া ফুলকার মধ্যে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে ১ম হতে ৪র্থ অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনিগুলো নিলয় হতে যথাক্রমে ১ম হতে ৪র্থ ফুলকায় CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে। হূৎপিণ্ড হতে অ্যাফারেন্ট ফুলকা ধমনির মাধ্যমে CO2 যুক্ত রক্ত ফুলকায় পৌঁছানোর পর O2 সমৃদ্ধ পানির সংস্পর্শে তা O2 যুক্ত হয় এবং বহির্বাহী ফুলকা ধর্মনির সাহায্যে ফুলকা থেকে দেহে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে রুই মাছের ৪ জোড়া ফুলকা থেকে ৪ জোড়া ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি সৃষ্টি হয় এবং ফুলকা থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত সংগ্রহ করে। ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি পার্শ্বীয় নালিকাসমূহ দ্বারা ফুলকা হতে CO2 বিমুক্ত অর্থাৎ O2 সমৃদ্ধ রক্ত সারাদেহে সরবরাহের জন্য পৃষ্ঠীয় ধমনিতে পৌছায়। এই ধমনি মেরুদণ্ডের নিচ দিয়ে দেহের পেছনে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত। লেজ অঞ্চলে পুচ্ছ ধমনির পূর্বে তা বিভিন্ন শাখা ধমনির সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে প্রবেশ করে O2 যুক্ত রক্ত সরবরাহ করে ।
উপরের বিশ্লেষণে বোঝা যায় যে, মাছের রক্ত সংবহনে ফুলকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।