উদ্দীপকে শেষোক্ত প্রাণী দুটি, অর্থাৎ টেট্রাপোডার (স্থলচর চতুষ্পদী প্রাণী) দুটি শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হলো ব্যাঙ ও সাপ। এদের মধ্যে ব্যাঙ হলো Amphibia শ্রেণির এবং সাপ হলো Reptilia শ্রেণির প্রাণী। প্রাণী দুটির শ্রেণিগত ভিন্নতার কারণ নিচে বর্ণনা করা হলো-
Amphibia শ্রেণি:
১. ভ্রণীয় বা লার্ভা অবস্থায় জলচর এবং ফুলকা দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন করে, কিন্তু পরিণত প্রাণী জলচর অথবা স্থলচর।
২. দেহ মস্তক, গ্রীবা, দেহকাণ্ড ও লেজে বিভক্ত, তবে অনেকক্ষেত্রে গ্রীবা ও লেজ থাকে না।
৩. সাধারণত দুই জোড়া পদ বিদ্যমান, প্রতি পদে 4-5টি নখরবিহীন আঙ্গুল থাকে, কিছু প্রাণীতে পদ থাকে না।
৪. দেহত্বক নরম, আর্দ্র ও গ্রন্থিযুক্ত, ত্বকে রঙিন পিগমেন্টযুক্ত কোষ বিদ্যমান।
৫. এক্টোথার্মিক প্রাণী অর্থাৎ দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তনশীল।
৬. পরিণত প্রাণী ফুসফুস দ্বারা শ্বসন কার্য সম্পাদন করে, তবে ত্বক ও মুখবিবরের প্রাচীর শ্বসনে সহায়তা করে।
৭. হৃৎপিন্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, এতে সাইনাস ভেনোসাস বিদ্যমান। রেনাল ও হেপাটিক পোর্টালতন্ত্র উন্নত।
৮. একলিঙ্গ প্রাণী, পুরুষে সঙ্গম অঙ্গ অনুপস্থিত, জীবনচক্রে ট্যাডপোল লার্ভা দশা বিদ্যমান।
Reptilia শ্রেণি:
১. এক্টোথার্মিক স্থলচর প্রাণী, বুকে ভর দিয়ে চলে।
২. ত্বক শুষ্ক ও গ্রন্থিবিহীন, ত্বকের এপিডার্মিস থেকে কেরাটিনাস আইশ, স্কিউট, বর্ম, প্লেট ইত্যাদি বহিঃকঙ্কাল গঠিত হয়৷
৩. অধিকাংশের প্রতি পদে নখরযুক্ত আঙ্গুলসহ দুই জোড়া পদ থাকে।
৪. মাথার করোটি একটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে ।
৫. হৃৎপিন্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
৬. একলিঙ্গ, পুরুষের পেশিময় সঙ্গম অঙ্গ বিদ্যমান।
৭. জীবনচক্রে কোন লার্ভা দশা নেই এবং অপত্য লালন দেখা যায় না।
উপরের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, ব্যাঙ ও সাপের মধ্যে শ্রেণিগত ভিন্নতা বিদ্যমান।