উদ্দীপকের P, Q ও R যথাক্রমে ফিতা কৃমি, গোলকৃমি ও রুই মাছ।
ত্রিস্তরী প্রাণীর ভ্রূণের পরিস্ফুটন এর সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট যে গহব্বর মেসোডার্মাল কোষে নির্মিত পেরিটোনিয়াম নামক ঝিল্লিতে আবৃত থাকে তাকে সিলোম বলে । সিলোম সাধারণত তিন প্রকার ।
১) অ্যাসিলোমেট
২) স্যুডোসিলোমেট
৩) ইউসিলোমেট
উদ্দীপকের P অর্থাৎ ফিতাকৃমি প্লাটিহেলমিন্থেস পর্বের প্রাণী। এদের চ্যাপ্টা কৃমিও বলা হয়। প্লাটিহেলমিনথিসরা অ্যাসিলোমেট।এদের দেহে সিলোম এর পরিবর্তে ভ্রূণের পরিস্ফুটন এর সময় অন্ত:স্থ ফাঁকা স্থান মেসোডার্মাল স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষে পূর্ণ থাকে।
Q হলো গোলকৃমি যা নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এদের নেমাথেলমিন্থেসও বলা হয়। নেমাটোডা পর্বের প্রাণীরা স্যুডোসিলোমেট বা অপ্রকৃত সিলোমেট। এরা সিলোমবিহীন তবে ভ্রূণের পরিস্ফুটন এর সময় অন্তঃস্থ ফাঁকা স্থানটিকে(ব্লাস্টোসিল) ঘিরে কখনো-কখনো মেসোডার্মাল কোষস্তর অবস্থান করে। কিন্তু তারা কখনো পেরিটোনিয়াম সৃষ্টি করে ব্লাস্টোসিল্লকে সম্পূর্ণ বেষ্টন করে না।
R হল রুই মাছ যা কর্ডাটা পর্বভুক্ত প্রাণী।কর্ডেটরা ইউসিলোমেট বা প্রকৃত সিলমেট। এরা অপেক্ষাকৃত উন্নত প্রাণী। এদের পেরিটোনিয়াম স্তর মেসোডার্মাল এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা সম্পূর্ণ বেষ্টিত থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে P, Q ও R এর প্রাণীদের মধ্যে সিলোমের ভিন্নতা রয়েছে।