উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীগুলো হচ্ছে- ফিতাকৃমি,গোলকৃমি,চিংড়ি ও ইলিশ মাছ। উদ্দীপকে উল্লেখিত ফিতাকৃমি হলো -Platyhelminthesপর্বের প্রাণী, গোলকৃমি হলো Nematoda পর্বের প্রাণী, চিংড়ি হলো- Arthopoda পর্বের প্রাণী এবং ইলিশ মাছ হলো-Chordata পর্বের প্রাণী । এদের মধ্যে শেষোক্ত প্রাণীটি উন্নত অর্থাৎ ইলিশ মাছ । নিচে তা ব্যাখা করা হলো :Platyhelminthes পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য-
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী ও পৃষ্ঠ অঙ্কীয়ভাবে চ্যাপ্টা অথবা পাতা বা ফিতার ন্যায়। দেহত্বক নরম, সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল-এ আবৃত । প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীদের দেহ সিলোমবিহীন বা অ্যাসিলোমেট। নির্দিষ্ট রক্ত সংবহনতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র ও কঙ্কালতন্ত্র অনুপস্থিত। রেচনতন্ত্র শিখাকোষ বা প্রোটোনেফ্রিডিয়া বা সোলেনোসাইট নিয়ে গঠিত। দেহের অগ্রভাগে সুস্পষ্ট মস্তক ও চোষক থাকে। উভলিঙ্গ, স্বনিষেক ও পরনিষেক সম্পন্ন হয়; নিষেক অভ্যন্তরীণভাবে ঘটে এবং পরিস্ফুটন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধরনের।
Nematoda পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য-
নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের দেহ লম্বা, নলাকার, সুতার ন্যায়, অখণ্ডায়িত ও দু'দিক ক্রমশ সরু। দেহ নমনীয় ও ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত। নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের পৌষ্টিকনালি সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পৌষ্টিক গ্রন্থি অনুপস্থিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে 'নলের ভেতর নল' (tube within a tube) ধরনের গঠনের মতো দেখায়। শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত। রেচনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র উপস্থিত। নেমাটোডার অধিকাংশ প্রাণী একলিঙ্গ, যৌন দ্বিরূপতা (পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণী বাহ্যিকভাবে ভিন্নরকম) দেখা যায়। অ্যাসকারিসে র্যাবডিটিফর্ম এবং উচেরেরিয়ার মাইক্রোফাইলেরিয়া লার্ভা দেখা যায় নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের।
Arthopoda পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য-
দেহ সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট, দ্বিপাশ্বীয় প্রতিসম,খন্ডকায়িত এবং ট্যাগমাটায় বিভক্ত। মস্তকে একজোড়া বা দুজোড়া অ্যান্টেনা ও সাধারণত একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে।বহিঃকঙ্কাল কাইটিন নির্মিত । সিলোম সংক্ষিপ্ত ও অধিকাংশ দেহগহ্বর রক্তে পূর্ণ হিমোসিল । পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ । রক্ত সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত । সাধারণত দেহতল অথবা ট্রাকিয়া,ফুলকা,বুকগিল বা বুকলাং-এর মাধ্যমে শ্বসন সম্পন্ন হয় । প্রধান রেচনঅঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা । এরা স্থলচর, পানিচর, মুক্তজীবী, নিশ্চল, সহবাসী বা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে।
Chordata পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য-
ভ্রূণ অবস্থায় অথবা সারা জীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নিরেট, দণ্ডাকৃতির ও স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড বর্তমান যা মেরুদণ্ডীদের পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। নটোকর্ডের পৃষ্ঠদেশ বরাবর ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ু-রজ্জু উপস্থিত। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এটির অগ্রপ্রান্তে মস্তিষ্ক এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড গঠিত হয়। উন্নত কর্ডেট ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীতে সারা জীবন অথবা জীবনের যে কোন দশায় গলবিলে পার্শ্বীয়ভাবে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ্র বর্তমান। মেরুদণ্ডীদের অন্তঃকঙ্কাল বিশিষ্ট দু'জোড়া পদ (অগ্রপদ ও পশ্চাৎ পদ) বর্তমান। উন্নত পরিপাকতন্ত্র পরিপাক গ্রন্থিবিশিষ্ট এবং পাকস্থলী অন্ত্র সুস্পষ্টভাবে আলাদা।অধিকাংশ প্রাণীতে কোমলাস্থি অথবা অস্থি নির্মিত কঙ্কাল দৈহিক অবকাঠামো তৈরি করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীগুলোর মধ্যে শেষোক্ত প্রাণীটি উন্নত কারণ, কর্ডাটা পর্বের প্রাণীগুলো পৃথিবীর সকল পরিবেশে বাস করে। এদের বহু প্রজাতি ডাঙায় বাস করে। জলচর কর্ডাটাদের মধ্যে বহু প্রজাতি স্বাদু পানিতে অথবা সমুদ্রে বাস করে। বহু প্রজাতি বৃক্ষবাসি, মরুবাসী, মেরুবাসী, গুহাবাসী, খেচর। কর্ডাটা পর্বের বহু প্রাণী বহিঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর দেহে সংলগ্ন হয়ে জীবনযাপন করে। কর্ডাটা পর্বটি উন্নত হওয়ার কারণ হচ্ছে এ পড়বে অনেক প্রাণীর মেরুদন্ড থাকে। আর এজন্য কর্ডাটা পর্বটি উন্নত পর্ব।