উদ্দীপকের C-তে বর্ণিত প্রাণীগুলো হলো সাপ, সিংহ এবং B-তে বর্ণিত প্রাণীগুলো হলো ঘাসফড়িং, তেলাপোকা। এদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কোন প্রাণীগুলো উন্নত। নিম্নে এদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো-
সাপ, সিংহ- এর দেহে ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন দেহের পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নমনীয়, স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড থাকে। কিন্তু ঘাসফড়িং ও তেলাপোকায় তা অনুপস্থিত। সাপ ও সিংহের নটোকর্ডের ঠিক উপরে লম্ব অক্ষ বরাবর ফাঁপা, নলাকার স্নায়ুরজ্জু থাকে যা পরিবর্তিত হয়ে সম্মুখে মস্তিষ্ক ও পশ্চাতে সুষুম্মাকাণ্ড গঠন করে। কিন্তু ঘাসফড়িং ও তেলাপোকায় স্নায়ুরজ্জু মূলত অঙ্কীয়, নিরেট ও গ্রন্থিযুক্ত। এদের সুষুম্মাকাণ্ড নেই। রক্ত সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত ধরনের, হৃৎপিণ্ড পৃষ্ঠীয়ভাবে অবস্থিত এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত। অপরদিকে সাপ ও সিংহের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের, হৃৎপিণ্ড অঙ্কীয়ভাবে অবস্থিত এবং হিমোসিল নেই। এছাড়া শ্রেণিবিন্যাসের ধাপে ঘাসফড়িং ও তেলাপোকা আর্থোপোডা এবং সাপ ও সিংহ কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত। সাধারণত উন্নততর বৈশিষ্ট্যের অধিকারী প্রাণীরা শ্রেণিবিন্যাসের নিচের দিকের ধাপে অবস্থান করে। কর্ডাটা পর্ব সবচেয়ে নিচে এবং আর্থ্রোপোডা পর্ব এর আগে অবস্থান করে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে বলা যায়, ঘাসফড়িং ও তেলাপোকা থেকে সাপ ও সিংহ উন্নত।