উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম খাদ্য উপাদানটি হলো ভাত বা শর্করা জাতীয় খাদ্য । শর্করা বিপাকে যকৃৎ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে শর্করা বিপাকে যকৃতের ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-
১. গ্লাইকোজেনেসিস: যকৃৎ গ্যালাক্টোজ, ফ্রুক্টোজসহ সমস্ত হেক্সোজ চিনিকে গ্লুকোজে পরিবর্তিত করে গ্লাইকোজেন নামক অদ্রবণীয় পলিস্যাকারাইড হিসেবে জমা রাখে। গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন রূপান্তর প্রক্রিয়াটিকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে। প্রক্রিয়াটি ইনসুলিনের উপস্থিতিতে উদ্দীপ্ত হয়।
২. গ্লুকোনিয়োজেনেসিস : গ্লুকোজের চাহিদার তুলনায় যদি গ্লাইকোজেনের ঘাটতি হয়, তখন নন-কার্বোহাইড্রেট (অশর্করা) উৎস যেমন- অ্যামিনো এসিড, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড এবং গ্লিসারল থেকে গ্লুকোনিয়োজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যকৃতে গ্লুকোজ বা গ্লাইকোজেন সংশ্লেষিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি গ্লুকাগন হরমোন দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়।
৩. গ্লাইকোজেনোলাইসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পেলে দেহের প্রয়োজনে অনেক সময় যকৃৎ গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের বিপাক ঘটিয়ে গ্লুকোজ তৈরি করে শক্তির চাহিদা পূরণ করে।
৪. লাইপোজেনেসিস: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অতি মাত্রায় বেড়ে গেলে যকৃৎ লাইপোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ট্রাইগ্লিসারাইডে পরিণত করে। যা কোষে চর্বি হিসেবে জমা থাকে।
৫. যকৃৎ ক্রেবস চক্রের মাধ্যমে শর্করার বিপাক ঘটিয়ে CO₂ পানি ও প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে।