উদ্দীপকের শেষ গ্রন্থি দ্বারা অগ্ন্যাশয়কে বুঝানো হয়েছে। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলার কারণ ও কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
কারণ: অগ্ন্যাশয় একইসাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে তাই একে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।
কার্যাবলি :
১. এনজাইম নিঃসরণ : এ গ্রন্থির নালিযুক্ত অংশ থেকে খাদ্য পরিপাককারী প্রধান তিন ধরনের এনজাইম ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নিঃসৃত হয় যেগুলো যথাক্রমে আমিষ, স্নেহ ও শর্করা খাদ্যকে পরিপাক করে। এছাড়া এ গ্রন্থি থেকে কাইমোট্রিপসিন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামিনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ ইত্যাদি এনজাইম নিঃসৃত হয় যেগুলো বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পরিপাক করে।
২. হরমোন ক্ষরণ : অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রায় ১০ লক্ষ কোষের একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত। কোষগুলো চার ধরনের হয়:
(ক) আলফা কোষ: পেপটাইড ধরনের গ্লুকাগন হরমোন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
(খ) বিটা কোষ: এরা ইনসুলিন হরমোন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
(গ) ডেল্টা কোষ: সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে যা আলফা ও বিটা কোষের হরমোন ক্ষরণ রোধ করে।
(ঘ) গামা কোষ: প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড হরমোেন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে যা অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. লবণ নিঃসরণ : এ গ্রন্থির নালিযুক্ত অংশ থেকে বাইকার্বনেট লবণ নিঃসৃত হয় যা পাকস্থলির অম্লতা লাঘব করে।
৪.অন্যান্য কাজ: দেহের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা, পানিসাম্যতা রক্ষা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে অগ্ন্যাশয় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।