উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনে নির্দেশিত গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। এটি খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়তা করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি। এটি একদিকে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি অপরদিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়। অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড পরিপাককারী নানাবিধ এনজাইম থাকে।
শর্করা পরিপাক:
১. অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন জাতীয় জটিল শর্করাকে মল্টোজে পরিণত করে।
২. মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ জাতীয় শর্করাকে গ্লুকোজে পরিণত করে।
আমিষ পরিপাক :
১. ট্রিপসিন: এ এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
২. কাইমোট্রিপসিন : এনজাইম প্রোটিওজ ও পেপটোন জাতীয় আমিষ অণুকে পলিপেটাইডে পরিণত করে।
৩. কার্বক্সিপেপটাইডেজ : এ এনজাইম পলিপেপটাইডের প্রান্তীয় লিঙ্কেজকে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো এসিডে রূপান্তরিত করে।
৪. অ্যামিনোপেপটাইডেজ: এ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৫. ট্রাইপেপটাইডেজ: এ এনজাইম ট্রাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৬. ডাইপেপটাইডেজ : এ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
৭. কোলাজিনেজ: এ এনজাইম কোলাজেন জাতীয় প্রোটিনকে সরল পেপটাইডে রূপান্তরিত করে।
৮. ইলাস্টেজ : এ এনজাইম যোজক টিস্যুর প্রোটিন ইলাস্টিনকে ভেঙে পেপটাইড উৎপন্ন করে।
লিপিড পরিপাক :
১. লাইপেজ এনজাইম চর্বি (লিপিড) কে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরিত করে।
২. কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম কোলেস্টেরল এস্টারকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিডে পরিণত করে।