উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাটি হলো স্থূলতা। নিচে স্থূলতার কারণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হলো-
স্থূলতার কারণ:
১. খাদ্যাভ্যাস : অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া, স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অধিক খাওয়া, তরল পানীয় পান করা।
২. জীবনযাত্রা প্রণালী: অলস জীবন যাপন করা, কায়িক পরিশ্রম না করা, ডেস্ক জব করা।
৩. শিক্ষার অভাব: স্থূলতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে না জানা, ভালো খাদ্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা, বাচ্চাদের মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ানো, খাবারের প্রতি আকর্ষণ।
৪. নিদ্রাহীনতা: রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম। কারণ ঘুম কম হলে খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় অতিরিক্ত ক্ষুধা থেকে।
৫. ওষুধ সেবন: কিছু ওষধ, যেমন- স্টেরয়েড, বিষন্নতা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ নিয়মিত সেবনে স্থূলতার প্রবণতা দেখা যায়।
৬. জিনগত সমস্যা: পারিবারিক হিস্ট্রি ও জিনগত সমস্যার কারণে স্থূলতা দেখা দেয়।
প্রতিকার ব্যবস্থা:
১. নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ – ২৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা সাঁতার কাটার অভ্যাস করতে হবে।
২. স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ: কম ক্যালরি ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল, সবজি ও গোটা শস্য দানা গ্রহণ করতে হবে।
৩. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ চর্বিময় খাবার, মিষ্টিসমৃদ্ধ আহার গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অ্যালকোহল গ্রহণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪. লোভনীয় খাবার পরিহার: লোভনীয় খাবারের দিকে হাত বাড়ানো ঠিক নয়। তৈলাক্ত ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
৫. দেহের ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা: প্রতি মাসে নিয়মিত অন্তত একবার নিজের ওজন মেপে দেখতে হবে রুটিন অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণের প্রভাব কতখানি সফল হয়েছে।
৬. চিকিৎসা : ক্ষুধা কমানোর কিংবা চর্বি শোষণ রোধ করে এমন ওষুধ সেবন করে স্থূলতা প্রতিরোধ করা যায়।