উদ্দীপকে উল্লেখিত M ও N অংশগুলো হলো যথাক্রমে পাকস্থলি এবং অগ্ন্যাশয়। পাকস্থলি এবং অগ্ন্যাশয়ে সংঘটিত পরিপাক কাজে স্নায়ু ও হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
স্নায়ুবিক কার্যক্রম:
ভেগাস স্নায়ু :
১. এটি প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুর অংশ।
২. খাদ্য পাকস্থলিতে প্রবেশ করলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয়ে পাকস্থলিতে এসিড (HCI) ও পেপসিনোজেন নিঃসরণে উদ্দীপনা দেয়।
৩. এটি গ্যাস্ট্রিক মুভমেন্ট বা চলন বাড়ায়।
রিফ্লেক্স প্রক্রিয়া:
১. মুখে খাদ্য গ্রহণ রিফ্লেক্স মাধ্যমে পাকস্থলিতে রস নিঃসরণ শুরু হয়।
২. পাকস্থলিতে খাদ্য উপস্থিত থাকলে- গ্যাস্ট্রিক রিফ্লেক্স শুরু হয়।
হরমোনগত কার্যক্রম:
১. গ্যাস্ট্রিন: গ্যাস্ট্রিন পাকস্থলির জি-সেল থেকে উৎপন্ন হয়। গ্যাস্ট্রিক রস 3HCI নিঃসরণ বাড়ায়। পাকস্থলিতে চলন বৃদ্ধি করে।
২. সিক্রেটিন: ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম থেকে নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়কে বাইকার্বোনেট সমৃদ্ধ রস নিঃসরণে উদ্দীপিত করে, যা পাকস্থলির এসিডকে নিরপেক্ষ করে।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন: ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়কে-ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ইত্যাদি এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে। পিত্তথলি সংকুচিত করে, ফলে পিত্ত নিঃসরণ হয়। স্নায়ু ও হরমোন একত্রে পাকস্থলি ও অগ্ন্যাশয়ের পরিপাক রস নিঃসরণ, এনজাইমের কাজ ও চলন নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্য হজমে সহায়তা করে।