উদ্দীপকের ২য় অংশের কণিকাসমূহ সাধারণ অবস্থায় জমাটবদ্ধ হয় না কিন্তু ইলেকট্রোলাইটযোগে জমাটবদ্ধ করা যায়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ২য় অংশে কলয়েড বিদ্যমান। কলয়েড বিভিন্ন প্রকার। যেমন- সল, ইমালশন ও জেল। ইমালসিফায়ারসমূহ কোয়াগুলেশন রোধে ব্যবহৃত ইলেকট্রোলাইটিয় পদার্থ নয়, এগুলো দীর্ঘ অণু পরিমারীয় পদার্থ। এসব অণুতে দ্রাবক আকর্ষী ও দ্রাবক বিকর্ষী দুটো প্রান্ত থাকে। দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত কলয়েড কণার পৃষ্ঠতলে দৃঢ়ভাবে অধিশোষিত হয়। ফলে ইমালসিফায়ারের দ্রাবক বিকর্ষী গ্রুপ কণার উপর একটি দৃঢ় ফিল্ম হিসেবে থাকে। তাই এসব পদার্থ শুধুমাত্র দুটি তরলে মধ্যকার আন্তঃপৃষ্ঠতলীয় টানকেই প্রতিহত করে না, বরং একই সঙ্গে কলয়েডীয় কণার চারপাশে একটি দৃঢ় স্থিতিশীল ফিল্ম গঠন করে কণাসমূহের জমাট বেঁধে যাওয়া রোধ করে।এ কারণে স্থিতিশীল ইমালশন গঠিত হয়। দুধের ক্ষেত্রে এই জিনিসই ঘটে। প্রোটিন অণুর দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত চর্বির কণার উপর অধিশোষিত হয়ে পরিবেষ্টন করে থাকলে দ্রাবক বিকর্ষী অপর প্রান্ত কণার উপর দৃঢ় ফিল্ম গঠন করে থাকে। ফলে সমধর্মী প্রান্তগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করায় আর একত্রিত হতে পারে না। কোলয়েড দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ যোগ করে কোলয়েড দ্রবণের কণার অধঃক্ষেপ বা কোলয়েড কণা ও বিস্তার মাধ্যমের পরস্পর দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াই কোয়াগুলেশন। যে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ ব্যবহার করে কোলয়েড কণাকে অধঃক্ষিপ্ত করা হয় তাকে কোয়াগুলেশন এজেন্ট বলে। কোনো সলকে নিম্নলিখিতভাবে কোয়াগুলেশন করা যায়: i. দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে মিশিয়ে: যখন দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে সমমোল অনুপাতে মেশানো হয়, তখন একে অপরকে প্রশমিত করে এবং উভয়েই কোয়াগুলেশন হয়। ii. স্ফুটন দ্বারা: সাধারণভাবে ফুটিয়ে কোনো কোলয়েড দ্রবণকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iii. তড়িচ্চালন দ্বারা: তড়িচ্চালন প্রক্রিয়ার সাহায্যে ডায়ালাইসিস করে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iv. পুনঃপুন বা বারংবার ডায়ালাইসিস দ্বারা: বারবার ডায়ালাইসিস করে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। কলয়েড কণাগুলোর সূক্ষ্ম অবস্থার কারণে বিস্তার মাধ্যমে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল যেমন- আয়ন-ডাইপোল আকর্ষণ বল দ্বারা মাধ্যমে সুস্থিত থাকে। এ অবস্থায় ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ে যায়। কিন্তু তড়িৎ বিশ্লেষ্যের সংস্পর্শে বিপরীত আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো আধান হ্রাস করে ফেলে। তখন কলয়েড কণাগুলোর মধ্যস্থিত বিকর্ষণ বল আর সুস্থিত থাকে না। এ অবস্থায় সূক্ষ্ম কণাগুলো জমাট বাঁধতে থাকে এবং আকারে বড় হয়। এটিই প্রকৃত জমাট বাধার প্রক্রিয়া।
HSC Chemistry 1st Paper Chapter 5: কর্মমূখী রসায়ন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Chemistry 1st Paper · Chapter 5: কর্মমূখী রসায়ন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের ২য় অংশের কণিকাসমূহ সাধারণ অবস্থায় জমাটবদ্ধ হয় না কিন্তু ই…
উদ্দীপক

Barisal · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর