Chapter 5: কর্মমূখী রসায়ন Chemistry 1st Paper

HSC Chemistry 1st Paper এর Chapter 5: কর্মমূখী রসায়ন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬৭৬

প্রশ্ন

Chemistry 1st Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Barisal · 2017

ক
রাইডার ধ্রুবক কী?

উত্তর

বীমের ওপর রাইডার স্থাপন করলে বীমের প্রতি ক্ষুদ্রতম দাগাংকনের জন্য যে ওজন পাওয়া যায় তাকে রাইডার ধ্রুবক বলে।
খ
CO2 গ্যাস, কিন্তু SiO2 কঠিন কেন?

উত্তর

কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে এবং এর অণুগুলোর মধ্যে দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস বল ক্রিয়াশীল। যেহেতু দুটি বিচ্ছিন্ন অণুর মধ্যকার এই আকর্ষণ শক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাই, CO2 সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস। question image অপরপক্ষে, সিলিকন ডাই-অক্সাইডে প্রতিটি Si পরমাণু চারটি করে অক্সিজেন পরমাণুর সাথে এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু দুটি Si পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ আণবিক গুচ্ছ তৈরি করে। সুতরাং, এদের মধ্যবর্তী সমযোজী বন্ধন ভাঙতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণে, SiO2 একটি কঠিন পদার্থ, কিন্তু CO2 একটি গ্যাস।
গ
উদ্দীপক অনুসারে A থেকে B প্রস্তুতপ্রণালী বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের A পাত্রে দুধ আছে। দুধ হতে মাখন (B) প্রস্তুতি আলোচনা করা হলো- দুধ হতে মাখন প্রস্তুতি: দুধ হতে মাখন প্রস্তুতিতে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ১. দুধের pH নিয়ন্ত্রণ। ২. দুধের পাস্তুরায়ন। ৩. শীতলীকরণ। ৪. ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় ঘোল প্রস্তুতকরণ এবং ৫. মাখন পানি মুক্ত করণ। ১. দুধের pH মান স্থির রাখা: কোনো গাভীর ফার্ম হতে দুধ সংগ্রহের পর তার pH মান নিয়ন্ত্রণ অতি জরুরী। pH মান 6.9-7.2 এর মধ্যে থাকাই নিরাপদ। এই pH মান 6.5 এর নিচে নেমে গেলে তা থেকে মাখন উৎপাদন বেশ জটিল হয়। কারণ pH মান কমে যাওয়ার অর্থ তার অম্লত্ব বেড়ে যাওয়া। এতে দুধে উপস্থিত চর্বি ভেঙে যায়, ফলে দুধ চোলাইকরণ প্রক্রিয়ায় ভেঙে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত হয়। এই ল্যাকটিক এসিড তৈরির ফলে দুধে কেইজিনের মাধ্যমে জমাট বেধে যায় অর্থাৎ দুধ জমে যায়। এটা দূর করার জন্য দুধ সংগ্রহের পর দ্রুত ফ্রিজিং করলে দুধের তাপমাত্রা 10°C এ নেমে আসে। ফলে জমাট বাধা রোধ হয়। তাছাড়া স্বল্প মাত্রার NaHCO3 বা সোডা যোগ করলে দুধের pH 6.9 হতে 7.2 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ২. দুধের পাস্তুরায়ন: দুধে চর্বি থাকায় এটি দ্রুত পচনশীল। এই পচন রোধে দুধ উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে পরে নিম্ন তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করলে দুধ পাস্তুরিত হয়। এতে দুধ জীবাণুমুক্ত হয় এবং সংরক্ষণ করার মেয়াদ বেড়ে যায়। পাস্তুরিত দুধের মাখন উৎপাদনের পরিমাণও বাড়ে। উচ্চ তাপে দুধ জীবাণুমুক্ত করে পুনরায় ঠান্ডা করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করার কৌশলই হলো পাস্তুরায়ন। ৩. শীতলীকরণ: পাস্তুরিত দুধ দ্রুত ঠান্ডা করার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করা যায়। অতপর প্রথমে পাস্তুরায়ন করার পর দুইভাবে শীতলীকরণ করে দুধ সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে সময়কাল 20 ঘন্টা হলেও গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালে তাপমাত্রা 7-10°C এবং শীতকালে 10-12°C এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করে দুধ সংরক্ষণ করা যায়। ৪. ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় ঘোল প্রস্তুতকরণ: সেন্টিফিউজ মেশিনে দুধ প্রবেশ করিয়ে কিছুক্ষণ ঘূর্ণায়মান করলে দুধের ক্রিম ও ঘোল আলাদা হয়ে যায়। এই ক্রীম হতেই মূলত মাখন তৈরি করা হয়। তবে মাখন তৈরির জন্য দুধের সর বা ক্রীম উপর হতে আলাদা করা হয়। ৫.মাখন পানিমুক্তকরণ: মাখন থেকে পানি অপসারণ দু'ভাবে করা যায়। প্রথমে ছাঁকন এবং এরপর চাপ প্রয়োগ করা। একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে মাখনের অধিকাংশ পানি সরানো হয়। এরপর পরিষ্কার কাপড়ের ছাকনিতে নিয়ে বারবার পানি দিয়ে ধুয়ে চাপ দিয়ে পানি সরানো হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ পানি স্বচ্ছ না হয় ততক্ষণ এভাবে পানি অপসারণ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে চাপ দিলেও আর পানি বের হবে না। তখন মাখনকে সংগ্রহ করে 10°C এর নিচে সংরক্ষণ করা হয়।
ঘ
উদ্দীপকের ২য় অংশের কণিকাসমূহ সাধারণ অবস্থায় জমাটবদ্ধ হয় না কিন্তু ইলেকট্রোলাইটযোগে জমাটবদ্ধ করা যায়- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

২য় অংশে কলয়েড বিদ্যমান। কলয়েড বিভিন্ন প্রকার। যেমন- সল, ইমালশন ও জেল। ইমালসিফায়ারসমূহ কোয়াগুলেশন রোধে ব্যবহৃত ইলেকট্রোলাইটিয় পদার্থ নয়, এগুলো দীর্ঘ অণু পরিমারীয় পদার্থ। এসব অণুতে দ্রাবক আকর্ষী ও দ্রাবক বিকর্ষী দুটো প্রান্ত থাকে। দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত কলয়েড কণার পৃষ্ঠতলে দৃঢ়ভাবে অধিশোষিত হয়। ফলে ইমালসিফায়ারের দ্রাবক বিকর্ষী গ্রুপ কণার উপর একটি দৃঢ় ফিল্ম হিসেবে থাকে। তাই এসব পদার্থ শুধুমাত্র দুটি তরলে মধ্যকার আন্তঃপৃষ্ঠতলীয় টানকেই প্রতিহত করে না, বরং একই সঙ্গে কলয়েডীয় কণার চারপাশে একটি দৃঢ় স্থিতিশীল ফিল্ম গঠন করে কণাসমূহের জমাট বেঁধে যাওয়া রোধ করে।এ কারণে স্থিতিশীল ইমালশন গঠিত হয়। দুধের ক্ষেত্রে এই জিনিসই ঘটে। প্রোটিন অণুর দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত চর্বির কণার উপর অধিশোষিত হয়ে পরিবেষ্টন করে থাকলে দ্রাবক বিকর্ষী অপর প্রান্ত কণার উপর দৃঢ় ফিল্ম গঠন করে থাকে। ফলে সমধর্মী প্রান্তগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করায় আর একত্রিত হতে পারে না। কোলয়েড দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ যোগ করে কোলয়েড দ্রবণের কণার অধঃক্ষেপ বা কোলয়েড কণা ও বিস্তার মাধ্যমের পরস্পর দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াই কোয়াগুলেশন। যে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ ব্যবহার করে কোলয়েড কণাকে অধঃক্ষিপ্ত করা হয় তাকে কোয়াগুলেশন এজেন্ট বলে। কোনো সলকে নিম্নলিখিতভাবে কোয়াগুলেশন করা যায়: i. দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে মিশিয়ে: যখন দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে সমমোল অনুপাতে মেশানো হয়, তখন একে অপরকে প্রশমিত করে এবং উভয়েই কোয়াগুলেশন হয়। ii. স্ফুটন দ্বারা: সাধারণভাবে ফুটিয়ে কোনো কোলয়েড দ্রবণকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iii. তড়িচ্চালন দ্বারা: তড়িচ্চালন প্রক্রিয়ার সাহায্যে ডায়ালাইসিস করে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iv. পুনঃপুন বা বারংবার ডায়ালাইসিস দ্বারা: বারবার ডায়ালাইসিস করে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। কলয়েড কণাগুলোর সূক্ষ্ম অবস্থার কারণে বিস্তার মাধ্যমে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল যেমন- আয়ন-ডাইপোল আকর্ষণ বল দ্বারা মাধ্যমে সুস্থিত থাকে। এ অবস্থায় ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ে যায়। কিন্তু তড়িৎ বিশ্লেষ্যের সংস্পর্শে বিপরীত আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো আধান হ্রাস করে ফেলে। তখন কলয়েড কণাগুলোর মধ্যস্থিত বিকর্ষণ বল আর সুস্থিত থাকে না। এ অবস্থায় সূক্ষ্ম কণাগুলো জমাট বাঁধতে থাকে এবং আকারে বড় হয়। এটিই প্রকৃত জমাট বাধার প্রক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Barisal · 2017

ক
রাইডার ধ্রুবক কী?

উত্তর

বীমের ওপর রাইডার স্থাপন করলে বীমের প্রতি ক্ষুদ্রতম দাগাংকনের জন্য যে ওজন পাওয়া যায় তাকে রাইডার ধ্রুবক বলে।
খ
CO2 গ্যাস, কিন্তু SiO2 কঠিন কেন?

উত্তর

কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু কার্বন পরমাণুর সাথে দ্বি-বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে এবং এর অণুগুলোর মধ্যে দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস বল ক্রিয়াশীল। যেহেতু দুটি বিচ্ছিন্ন অণুর মধ্যকার এই আকর্ষণ শক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাই, CO2 সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস। question image অপরপক্ষে, সিলিকন ডাই-অক্সাইডে প্রতিটি Si পরমাণু চারটি করে অক্সিজেন পরমাণুর সাথে এবং প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু দুটি Si পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে বৃহৎ আণবিক গুচ্ছ তৈরি করে। সুতরাং, এদের মধ্যবর্তী সমযোজী বন্ধন ভাঙতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। এ কারণে, SiO2 একটি কঠিন পদার্থ, কিন্তু CO2 একটি গ্যাস।
গ
উদ্দীপক অনুসারে A থেকে B প্রস্তুতপ্রণালী বর্ণনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের A পাত্রে দুধ আছে। দুধ হতে মাখন (B) প্রস্তুতি আলোচনা করা হলো- দুধ হতে মাখন প্রস্তুতি: দুধ হতে মাখন প্রস্তুতিতে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ১. দুধের pH নিয়ন্ত্রণ। ২. দুধের পাস্তুরায়ন। ৩. শীতলীকরণ। ৪. ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় ঘোল প্রস্তুতকরণ এবং ৫. মাখন পানি মুক্ত করণ। ১. দুধের pH মান স্থির রাখা: কোনো গাভীর ফার্ম হতে দুধ সংগ্রহের পর তার pH মান নিয়ন্ত্রণ অতি জরুরী। pH মান 6.9-7.2 এর মধ্যে থাকাই নিরাপদ। এই pH মান 6.5 এর নিচে নেমে গেলে তা থেকে মাখন উৎপাদন বেশ জটিল হয়। কারণ pH মান কমে যাওয়ার অর্থ তার অম্লত্ব বেড়ে যাওয়া। এতে দুধে উপস্থিত চর্বি ভেঙে যায়, ফলে দুধ চোলাইকরণ প্রক্রিয়ায় ভেঙে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত হয়। এই ল্যাকটিক এসিড তৈরির ফলে দুধে কেইজিনের মাধ্যমে জমাট বেধে যায় অর্থাৎ দুধ জমে যায়। এটা দূর করার জন্য দুধ সংগ্রহের পর দ্রুত ফ্রিজিং করলে দুধের তাপমাত্রা 10°C এ নেমে আসে। ফলে জমাট বাধা রোধ হয়। তাছাড়া স্বল্প মাত্রার NaHCO3 বা সোডা যোগ করলে দুধের pH 6.9 হতে 7.2 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ২. দুধের পাস্তুরায়ন: দুধে চর্বি থাকায় এটি দ্রুত পচনশীল। এই পচন রোধে দুধ উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে পরে নিম্ন তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করলে দুধ পাস্তুরিত হয়। এতে দুধ জীবাণুমুক্ত হয় এবং সংরক্ষণ করার মেয়াদ বেড়ে যায়। পাস্তুরিত দুধের মাখন উৎপাদনের পরিমাণও বাড়ে। উচ্চ তাপে দুধ জীবাণুমুক্ত করে পুনরায় ঠান্ডা করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করার কৌশলই হলো পাস্তুরায়ন। ৩. শীতলীকরণ: পাস্তুরিত দুধ দ্রুত ঠান্ডা করার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করা যায়। অতপর প্রথমে পাস্তুরায়ন করার পর দুইভাবে শীতলীকরণ করে দুধ সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে সময়কাল 20 ঘন্টা হলেও গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালে তাপমাত্রা 7-10°C এবং শীতকালে 10-12°C এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করে দুধ সংরক্ষণ করা যায়। ৪. ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় ঘোল প্রস্তুতকরণ: সেন্টিফিউজ মেশিনে দুধ প্রবেশ করিয়ে কিছুক্ষণ ঘূর্ণায়মান করলে দুধের ক্রিম ও ঘোল আলাদা হয়ে যায়। এই ক্রীম হতেই মূলত মাখন তৈরি করা হয়। তবে মাখন তৈরির জন্য দুধের সর বা ক্রীম উপর হতে আলাদা করা হয়। ৫.মাখন পানিমুক্তকরণ: মাখন থেকে পানি অপসারণ দু'ভাবে করা যায়। প্রথমে ছাঁকন এবং এরপর চাপ প্রয়োগ করা। একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে মাখনের অধিকাংশ পানি সরানো হয়। এরপর পরিষ্কার কাপড়ের ছাকনিতে নিয়ে বারবার পানি দিয়ে ধুয়ে চাপ দিয়ে পানি সরানো হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ পানি স্বচ্ছ না হয় ততক্ষণ এভাবে পানি অপসারণ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে চাপ দিলেও আর পানি বের হবে না। তখন মাখনকে সংগ্রহ করে 10°C এর নিচে সংরক্ষণ করা হয়।
ঘ
উদ্দীপকের ২য় অংশের কণিকাসমূহ সাধারণ অবস্থায় জমাটবদ্ধ হয় না কিন্তু ইলেকট্রোলাইটযোগে জমাটবদ্ধ করা যায়- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

২য় অংশে কলয়েড বিদ্যমান। কলয়েড বিভিন্ন প্রকার। যেমন- সল, ইমালশন ও জেল। ইমালসিফায়ারসমূহ কোয়াগুলেশন রোধে ব্যবহৃত ইলেকট্রোলাইটিয় পদার্থ নয়, এগুলো দীর্ঘ অণু পরিমারীয় পদার্থ। এসব অণুতে দ্রাবক আকর্ষী ও দ্রাবক বিকর্ষী দুটো প্রান্ত থাকে। দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত কলয়েড কণার পৃষ্ঠতলে দৃঢ়ভাবে অধিশোষিত হয়। ফলে ইমালসিফায়ারের দ্রাবক বিকর্ষী গ্রুপ কণার উপর একটি দৃঢ় ফিল্ম হিসেবে থাকে। তাই এসব পদার্থ শুধুমাত্র দুটি তরলে মধ্যকার আন্তঃপৃষ্ঠতলীয় টানকেই প্রতিহত করে না, বরং একই সঙ্গে কলয়েডীয় কণার চারপাশে একটি দৃঢ় স্থিতিশীল ফিল্ম গঠন করে কণাসমূহের জমাট বেঁধে যাওয়া রোধ করে।এ কারণে স্থিতিশীল ইমালশন গঠিত হয়। দুধের ক্ষেত্রে এই জিনিসই ঘটে। প্রোটিন অণুর দ্রাবক আকর্ষী প্রান্ত চর্বির কণার উপর অধিশোষিত হয়ে পরিবেষ্টন করে থাকলে দ্রাবক বিকর্ষী অপর প্রান্ত কণার উপর দৃঢ় ফিল্ম গঠন করে থাকে। ফলে সমধর্মী প্রান্তগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করায় আর একত্রিত হতে পারে না। কোলয়েড দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ যোগ করে কোলয়েড দ্রবণের কণার অধঃক্ষেপ বা কোলয়েড কণা ও বিস্তার মাধ্যমের পরস্পর দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াই কোয়াগুলেশন। যে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ ব্যবহার করে কোলয়েড কণাকে অধঃক্ষিপ্ত করা হয় তাকে কোয়াগুলেশন এজেন্ট বলে। কোনো সলকে নিম্নলিখিতভাবে কোয়াগুলেশন করা যায়: i. দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে মিশিয়ে: যখন দুটি বিপরীত আধানযুক্ত সলকে সমমোল অনুপাতে মেশানো হয়, তখন একে অপরকে প্রশমিত করে এবং উভয়েই কোয়াগুলেশন হয়। ii. স্ফুটন দ্বারা: সাধারণভাবে ফুটিয়ে কোনো কোলয়েড দ্রবণকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iii. তড়িচ্চালন দ্বারা: তড়িচ্চালন প্রক্রিয়ার সাহায্যে ডায়ালাইসিস করে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। iv. পুনঃপুন বা বারংবার ডায়ালাইসিস দ্বারা: বারবার ডায়ালাইসিস করে তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থকে অপসারিত করে কোনো সলকে কোয়াগুলেশন করা যায়। কলয়েড কণাগুলোর সূক্ষ্ম অবস্থার কারণে বিস্তার মাধ্যমে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল যেমন- আয়ন-ডাইপোল আকর্ষণ বল দ্বারা মাধ্যমে সুস্থিত থাকে। এ অবস্থায় ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো পরস্পরকে বিকর্ষণ করে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ে যায়। কিন্তু তড়িৎ বিশ্লেষ্যের সংস্পর্শে বিপরীত আধানযুক্ত কলয়েড কণাগুলো আধান হ্রাস করে ফেলে। তখন কলয়েড কণাগুলোর মধ্যস্থিত বিকর্ষণ বল আর সুস্থিত থাকে না। এ অবস্থায় সূক্ষ্ম কণাগুলো জমাট বাঁধতে থাকে এবং আকারে বড় হয়। এটিই প্রকৃত জমাট বাধার প্রক্রিয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অ্যামোনিয়া দ্রবণ, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ও ডিটারজেন্ট-এর মিশ্রণ একটি পরিষ্কারক।

Jessore · 2017

ক
দহন তাপ কী?

উত্তর

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও 1 atm চাপে 1 মোল কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে অক্সিজেনে সম্পূর্ণরূপে দহন করলে তাপের যে পরিবর্তন ঘটে তাকে দহন তাপ বলে।
খ
রাইডার ব্যবহার কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাসায়নিক ব্যালেন্সের একটি পৃথক ওজন বাক্স থাকে। তাতে ১ থেকে ১০০ গ্রাম এবং ১ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাপের অনেকগুলো ওজন থাকে। রাসায়নিক ব্যালেন্সের সাহায্যে সাধারণত দুই দশমিক স্থান পর্যন্ত ওজন পরিমাপ করা যায়। কিন্তু মাত্রিক বিশ্লেষণের অনেক ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ওজন নির্ণয়ের স্বার্থে তিন বা চার দশমিক স্থান পর্যন্ত মান প্রয়োজন হয়। যার জন্য রাইডার ব্যবহৃত হয়। রাইডার হলো নির্দিষ্ট জানা ভরের একটি অতি সূক্ষ্ম ধাতব তারের বাকানো টুকরা যা ব্যালেন্সের বীমের উপর দিয়ে চলাচল করতে পারে। প্রতিটি রাইডারের জন্য নির্দিষ্ট ভরের একটি স্থির সংখ্যা সূচক মান গণনা করা যায়। এ স্থির মানকে রাইডার ধ্রুবক বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের মিশ্রণটির পরিষ্কারকরণ কৌশল ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রদত্ত মিশ্রণটি হলো গ্লাস ক্লিনার। গ্লাসে লেগে থাকা ময়লার মধ্যে থাকে গ্রিজ বা চর্বি ও ধুলাবালি। গ্রিজ বা তৈলাক্ত পদার্থকে দ্রবীভূত করার জন্য ক্লিনারে অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হয়। আবার ডিটারজেন্ট wetting agent রূপে পানির surface tension কে হ্রাস করে। ফলে মূল পরিষ্কারক NH4OH ময়লাকে দূর করতে পারে। ডিটারজেন্টের অ্যানায়নিক প্রান্ত হাইড্রোফিলিক হওয়ায় কাচের তলকে সিক্ত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ডিটারজেন্টের অপর প্রান্ত লিপোফিলিক হওয়ায় এটি তৈলাক্ত ময়লার সাথে আবদ্ধ হয়ে কাচতল থেকে ময়লাকে তুলে ফেলে। এছাড়া পানি গ্লাসে লেগে থাকা এসব ময়লাকে ধুয়ে ফেলে। এছাড়াও চতুর্থ উপাদান আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল কাচের গায়ে লেগে থাকা পানিকে শুষে নেয়। question image
ঘ
মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে একটি তীব্র ক্ষার ব্যবহার করলে পরিষ্কারকটির প্রয়োগক্ষেত্র ভিন্ন হয়ে যায়- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

এখানে মিশ্রণটি গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার NaOH ব্যবহার করলে মিশ্রণটির প্রয়োগ ক্ষেত্র ভিন্ন হয়ে যায়। আমরা জানি, অধিকাংশ কাচের মূল উপাদান হিসেবে SiO2 বিদ্যমান। উক্ত SiO2 এর সাথে NH3 দ্রবণ বিক্রিয়া করে না। কিন্তু তীব্র ক্ষার যেমন NaOH কাচের উপাদান SiO2 এর সাথে বিক্রিয়ায় দ্রবণীয় সোডিয়াম সিলিকেট উৎপন্ন করে। ফলে কাচ ক্ষয় হয়ে এর উপরিতলের মসৃণতা বিনষ্ট হয়। তাই মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার ব্যবহার করলে তা গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অপরদিকে টয়লেটে গ্লাস অপেক্ষা ভারী ময়লাসহ অণুজীব, তেল, গ্রিজ ও চর্বি বিদ্যমান হওয়ায় তা পরিষ্কারে শক্তিশালী ক্ষার ও ক্ষয়কারী পদার্থ কস্টিক সোডা ব্যবহার করা হয়। এতে ময়লা দ্রব্য অতিসহজে পরিষ্কার হয় যা অ্যামোনিয়ার পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় মিশ্রণে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার ব্যবহার করা হলে তা গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে কঠিন পরিষ্কারক হিসেবে টয়লেট ক্লিনারের কাজ করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

অ্যামোনিয়া দ্রবণ, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ও ডিটারজেন্ট-এর মিশ্রণ একটি পরিষ্কারক।

Jessore · 2017

ক
দহন তাপ কী?

উত্তর

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও 1 atm চাপে 1 মোল কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে অক্সিজেনে সম্পূর্ণরূপে দহন করলে তাপের যে পরিবর্তন ঘটে তাকে দহন তাপ বলে।
খ
রাইডার ব্যবহার কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

রাসায়নিক ব্যালেন্সের একটি পৃথক ওজন বাক্স থাকে। তাতে ১ থেকে ১০০ গ্রাম এবং ১ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাপের অনেকগুলো ওজন থাকে। রাসায়নিক ব্যালেন্সের সাহায্যে সাধারণত দুই দশমিক স্থান পর্যন্ত ওজন পরিমাপ করা যায়। কিন্তু মাত্রিক বিশ্লেষণের অনেক ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ওজন নির্ণয়ের স্বার্থে তিন বা চার দশমিক স্থান পর্যন্ত মান প্রয়োজন হয়। যার জন্য রাইডার ব্যবহৃত হয়। রাইডার হলো নির্দিষ্ট জানা ভরের একটি অতি সূক্ষ্ম ধাতব তারের বাকানো টুকরা যা ব্যালেন্সের বীমের উপর দিয়ে চলাচল করতে পারে। প্রতিটি রাইডারের জন্য নির্দিষ্ট ভরের একটি স্থির সংখ্যা সূচক মান গণনা করা যায়। এ স্থির মানকে রাইডার ধ্রুবক বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের মিশ্রণটির পরিষ্কারকরণ কৌশল ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রদত্ত মিশ্রণটি হলো গ্লাস ক্লিনার। গ্লাসে লেগে থাকা ময়লার মধ্যে থাকে গ্রিজ বা চর্বি ও ধুলাবালি। গ্রিজ বা তৈলাক্ত পদার্থকে দ্রবীভূত করার জন্য ক্লিনারে অ্যামোনিয়া ব্যবহৃত হয়। আবার ডিটারজেন্ট wetting agent রূপে পানির surface tension কে হ্রাস করে। ফলে মূল পরিষ্কারক NH4OH ময়লাকে দূর করতে পারে। ডিটারজেন্টের অ্যানায়নিক প্রান্ত হাইড্রোফিলিক হওয়ায় কাচের তলকে সিক্ত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ডিটারজেন্টের অপর প্রান্ত লিপোফিলিক হওয়ায় এটি তৈলাক্ত ময়লার সাথে আবদ্ধ হয়ে কাচতল থেকে ময়লাকে তুলে ফেলে। এছাড়া পানি গ্লাসে লেগে থাকা এসব ময়লাকে ধুয়ে ফেলে। এছাড়াও চতুর্থ উপাদান আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল কাচের গায়ে লেগে থাকা পানিকে শুষে নেয়। question image
ঘ
মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে একটি তীব্র ক্ষার ব্যবহার করলে পরিষ্কারকটির প্রয়োগক্ষেত্র ভিন্ন হয়ে যায়- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

এখানে মিশ্রণটি গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার NaOH ব্যবহার করলে মিশ্রণটির প্রয়োগ ক্ষেত্র ভিন্ন হয়ে যায়। আমরা জানি, অধিকাংশ কাচের মূল উপাদান হিসেবে SiO2 বিদ্যমান। উক্ত SiO2 এর সাথে NH3 দ্রবণ বিক্রিয়া করে না। কিন্তু তীব্র ক্ষার যেমন NaOH কাচের উপাদান SiO2 এর সাথে বিক্রিয়ায় দ্রবণীয় সোডিয়াম সিলিকেট উৎপন্ন করে। ফলে কাচ ক্ষয় হয়ে এর উপরিতলের মসৃণতা বিনষ্ট হয়। তাই মিশ্রণটিতে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার ব্যবহার করলে তা গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অপরদিকে টয়লেটে গ্লাস অপেক্ষা ভারী ময়লাসহ অণুজীব, তেল, গ্রিজ ও চর্বি বিদ্যমান হওয়ায় তা পরিষ্কারে শক্তিশালী ক্ষার ও ক্ষয়কারী পদার্থ কস্টিক সোডা ব্যবহার করা হয়। এতে ময়লা দ্রব্য অতিসহজে পরিষ্কার হয় যা অ্যামোনিয়ার পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। সুতরাং আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় মিশ্রণে অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে তীব্র ক্ষার ব্যবহার করা হলে তা গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে কঠিন পরিষ্কারক হিসেবে টয়লেট ক্লিনারের কাজ করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভিনেগার একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ। এর ব্যবহার বহুমাত্রিক।

Chittagong · 2017

ক
কোয়াগুলেশন কী?

উত্তর

যে প্রক্রিয়ায় কোনো দ্রবণে উপস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাকে উপযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ (Coagulant) যোগ করে অপেক্ষাকৃত বড় কণায় রূপান্তরিত করে দ্রবণ থেকে আলাদা করা হয় তাকে কোয়াগুলেশন বলে।
খ
NaCl তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

যেসব তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে আয়নে পরিণত হয় এবং তড়িৎ পরিবহন করে তাদের তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। NaCl একটি তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য কেননা এটি দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। NaCl(s)→Na+(l)+Cl−(l)\mathrm{NaCl}(\mathrm{s}) \rightarrow \mathrm{Na}^{+}(l)+\mathrm{Cl}^{-}(l) অ্যানোডে জারণ: 2Cl−(l)→Cl2( g)+2e−2 \mathrm{Cl}^{-}(l) \rightarrow \mathrm{Cl}_2(\mathrm{~g})+2 \mathrm{e}^{-} ক্যাথোডে বিজারণ: 2Na+(l)+2e−→2Na(s)2 \mathrm{Na}^{+}(l)+2 \mathrm{e}^{-} \rightarrow 2 \mathrm{Na}(\mathrm{s}) সুতরাং, NaCl একটি তীব্র তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ।
গ
গাঁজন প্রক্রিয়ায় তুমি কীভাবে যৌগটি উৎপন্ন করবে?

উত্তর

গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রশ্নে প্রদত্ত ভিনেগার প্রস্তুত করা যায়। নিচে ভিনেগার প্রস্তুতি বর্ণনা করা হলো- আখের রসে প্রায় 3-4% চিনি বিদ্যমান। যা ঈস্ট নিঃসৃত ইনভারটেজ ও জাইমেজ এনজাইমের কার্যকারিতায় প্রথমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এবং পরে ইথানল উৎপন্ন করে। সংঘটিত বিক্রিয়াসমূহ হলো- question image এভাবে গাঁজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং দ্রবণে 10% ইথানল বিদ্যমান থাকে। উক্ত ইথানল মাইকোডার্মা অ্যাসিটি নামক ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জারিত হয়ে ইথানয়িক এসিড উৎপন্ন করে। ইথানয়িক এসিডের 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে যা প্রিজারভেটিভস হিসেবে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। question image
ঘ
যৌগটির খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের যৌগটি হচ্ছে ভিনেগার যা ইথানোয়িক এসিডের 6-10% জলীয় দ্রবণ। ভিনেগারের কৌশল নিম্নে আলোচনা করা হলো- অণুজীবের আক্রমণে খাদ্যদ্রব্যের গুণাগুণ বিনষ্ট হয়। খাদ্য দ্রব্যকে অণুজীবের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দুটি প্রধান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়- i. অণুজীবের বিকাশ ও বৃদ্ধি রহিতকরণ। ii. অণুজীবের এনজাইমের কার্যকারিতা বিনষ্টকরণ। সাধারণত অধিকাংশ এনজাইমের অত্যানুকূল pH মান 6.5 7.5 এর পরিসরে বিরাজ করে। যেহেতু, ভিনেগার খাদ্যপণ্যের জলীয় পরিবেশের pH মান হ্রাস করে, তাই এ পরিবেশটি অণুজীবের বিকাশ ও বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক নয়। প্রকৃতপক্ষে অণুজীবের বিকাশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মূল কারণ হলো অবিয়োজিত অ্যাসিটিক এসিডের পরিমাণ। pH এর মান হ্রাস পেলে অ্যাসিটিক এসিডের অবিয়োজিত অংশের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অবিয়োজিত অ্যাসিটিক এসিড (CH3COOH) অণুজীবের কোষ দেয়াল দিয়ে সহজেই অতিক্রম করতে পারে। সাইটোপ্লাজমের উচ্চ pH মানে অ্যাসিটিক এসিড হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও অ্যাসিটেট আয়নে (CH3COO-) বিয়োজিত হয়; CH3COOH HoooooI CH3COO- + H+ জীবন্ত অণুজীব + H+ → মৃত অণুজীব অণুজীবের সাইটোপ্লাজমে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ pH মান হ্রাস পায়। এর ফলে প্রয়োজনীয় এনজাইম সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিণামে কোষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ভিনেগারের H+ অণুজীবের এনজাইমের নাইট্রোজেনে উপস্থিত মুক্তজোড়ের সাথে মিশে এনজাইমের কার্যকারিতা হ্রাস করে। question image এভাবে pH হ্রাসের মাধ্যমে উপরিউক্ত খাদ্য সংরক্ষকটি তার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCChemistry 1st Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ভিনেগার একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ। এর ব্যবহার বহুমাত্রিক।

Chittagong · 2017

ক
কোয়াগুলেশন কী?

উত্তর

যে প্রক্রিয়ায় কোনো দ্রবণে উপস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাকে উপযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ (Coagulant) যোগ করে অপেক্ষাকৃত বড় কণায় রূপান্তরিত করে দ্রবণ থেকে আলাদা করা হয় তাকে কোয়াগুলেশন বলে।
খ
NaCl তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

যেসব তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে আয়নে পরিণত হয় এবং তড়িৎ পরিবহন করে তাদের তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। NaCl একটি তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য কেননা এটি দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। NaCl(s)→Na+(l)+Cl−(l)\mathrm{NaCl}(\mathrm{s}) \rightarrow \mathrm{Na}^{+}(l)+\mathrm{Cl}^{-}(l) অ্যানোডে জারণ: 2Cl−(l)→Cl2( g)+2e−2 \mathrm{Cl}^{-}(l) \rightarrow \mathrm{Cl}_2(\mathrm{~g})+2 \mathrm{e}^{-} ক্যাথোডে বিজারণ: 2Na+(l)+2e−→2Na(s)2 \mathrm{Na}^{+}(l)+2 \mathrm{e}^{-} \rightarrow 2 \mathrm{Na}(\mathrm{s}) সুতরাং, NaCl একটি তীব্র তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ।
গ
গাঁজন প্রক্রিয়ায় তুমি কীভাবে যৌগটি উৎপন্ন করবে?

উত্তর

গাঁজন প্রক্রিয়ায় প্রশ্নে প্রদত্ত ভিনেগার প্রস্তুত করা যায়। নিচে ভিনেগার প্রস্তুতি বর্ণনা করা হলো- আখের রসে প্রায় 3-4% চিনি বিদ্যমান। যা ঈস্ট নিঃসৃত ইনভারটেজ ও জাইমেজ এনজাইমের কার্যকারিতায় প্রথমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এবং পরে ইথানল উৎপন্ন করে। সংঘটিত বিক্রিয়াসমূহ হলো- question image এভাবে গাঁজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং দ্রবণে 10% ইথানল বিদ্যমান থাকে। উক্ত ইথানল মাইকোডার্মা অ্যাসিটি নামক ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জারিত হয়ে ইথানয়িক এসিড উৎপন্ন করে। ইথানয়িক এসিডের 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে যা প্রিজারভেটিভস হিসেবে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। question image
ঘ
যৌগটির খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের যৌগটি হচ্ছে ভিনেগার যা ইথানোয়িক এসিডের 6-10% জলীয় দ্রবণ। ভিনেগারের কৌশল নিম্নে আলোচনা করা হলো- অণুজীবের আক্রমণে খাদ্যদ্রব্যের গুণাগুণ বিনষ্ট হয়। খাদ্য দ্রব্যকে অণুজীবের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দুটি প্রধান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়- i. অণুজীবের বিকাশ ও বৃদ্ধি রহিতকরণ। ii. অণুজীবের এনজাইমের কার্যকারিতা বিনষ্টকরণ। সাধারণত অধিকাংশ এনজাইমের অত্যানুকূল pH মান 6.5 7.5 এর পরিসরে বিরাজ করে। যেহেতু, ভিনেগার খাদ্যপণ্যের জলীয় পরিবেশের pH মান হ্রাস করে, তাই এ পরিবেশটি অণুজীবের বিকাশ ও বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক নয়। প্রকৃতপক্ষে অণুজীবের বিকাশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মূল কারণ হলো অবিয়োজিত অ্যাসিটিক এসিডের পরিমাণ। pH এর মান হ্রাস পেলে অ্যাসিটিক এসিডের অবিয়োজিত অংশের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অবিয়োজিত অ্যাসিটিক এসিড (CH3COOH) অণুজীবের কোষ দেয়াল দিয়ে সহজেই অতিক্রম করতে পারে। সাইটোপ্লাজমের উচ্চ pH মানে অ্যাসিটিক এসিড হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও অ্যাসিটেট আয়নে (CH3COO-) বিয়োজিত হয়; CH3COOH HoooooI CH3COO- + H+ জীবন্ত অণুজীব + H+ → মৃত অণুজীব অণুজীবের সাইটোপ্লাজমে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ pH মান হ্রাস পায়। এর ফলে প্রয়োজনীয় এনজাইম সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিণামে কোষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ভিনেগারের H+ অণুজীবের এনজাইমের নাইট্রোজেনে উপস্থিত মুক্তজোড়ের সাথে মিশে এনজাইমের কার্যকারিতা হ্রাস করে। question image এভাবে pH হ্রাসের মাধ্যমে উপরিউক্ত খাদ্য সংরক্ষকটি তার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো