উদ্দীপকের A ও B বিষয় দুটি হলো খাদ্যের উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং খাদ্যের নিরাপদ মজুদ ও গুণগত মান রক্ষা। বিষয় দুটির ক্ষেত্রে রসায়নের ভূমিকা অপরিহার্য। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ মানুষের সকল খাদ্য উৎপাদন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিপক্বতা সবই জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। উদ্ভিদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দরকার উপযুক্ত পরিবেশ। যেমন উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত পানি, আলো, বাতাস এবং রোগ বালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন কীটনাশক। রসায়ন এ সমস্ত কাজ সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করেছে। কৃষকের কষ্টের উৎপাদিত ফসলকে পোকামাকড় খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। এজন্য খাদ্য সংরক্ষণ প্রয়োজন। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য রসায়ন গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে কীটনাশক। যেমন- এন্ড্রিন, ফুরাডান, বাসুডিন ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। সুতরাং খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে রসায়নের ভূমিকা অপরিহার্য।
খাদ্যের নিরাপদ মজুদ ও গুণগত মান রক্ষা: বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য যেমন শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি যে কোনো ধরনের খাদ্য সে উদ্ভিজ্জ হোক বা প্রাণিজ হোক, রান্না করা অথবা কাঁচা যা হোক না কেন কিছুদিন রেখে দিলে বিভিন্ন অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তা নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য খাদ্যের নিরাপদ মজুদ দরকার। কৌটাজাতকরণের মাধ্যমে খাদ্যকে নিরাপদে মজুদ করা সম্ভব হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রিজারভেটিভসসহকারে খাদ্য দ্রব্যকে কৌটার মধ্যে খাদ্যের মান অক্ষুন্ন রেখে সংরক্ষণ করা হয়।