প্রদত্ত B পাত্রে প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য এবং C পাত্রে কৃত্রিম প্রিজারভেটিভস দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য নির্দেশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে B পাত্রে সংরক্ষিত খাদ্য মানব স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
সময়ের সাথে সাথে কৃত্রিম প্রিজারভেটিভস্ এর ব্যবহারও ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। কিন্তু কৃত্রিম প্রিজারভেটিভস্ দ্বারা মানবদেহ ও পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের যে ক্ষতিসাধন হয় তা নিচে দেওয়া হলো-
১. NaNO2 ও নাইট্রেট এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পাকস্থলীতে ক্ষত, খাদ্যনালিতে সংক্রমণ ও রেকটাম অঞ্চলে পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হয়।
২. সরবিক এসিড অধিক pH মানের খাদ্যদ্রব্যের জন্য ক্ষতিকর।
৩. SO2ও ধাতব সালফাইট অতিরিক্ত ব্যবহার মাইগ্রেনের সমস্যা সৃষ্টি করে ত্বকের এলার্জি ও খাদ্য গ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
৪. প্রোপাইল গ্যালেট এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পাকস্থলী, কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও এলার্জির সৃষ্টি হয়।
৫. BHT এর ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ধর্ম বর্তমান থাকে।
পক্ষান্তরে প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহারের ফলে এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। এছাড়াও প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত খাদ্য ভালো থাকে।
প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ যেমন ভিনেগারের উপস্থিতিতে খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চলন বাড়িয়ে দেয়, হজম শক্তি বাড়ায়, শরীর সৃষ্ট তরল অপদ্রব্য নিঃসরণ সহজ করে দেয়, রক্তের অপ্রয়োজনীয় চর্বি বিদূরিত করে শরীরকে স্লিম রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং উপরের বর্ণনা থেকে বলা যায়, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভসে রাসায়নিক উপাদান ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকায় কৃত্রিম প্রিজারভেটিভস অপেক্ষা প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস তুলনামূলক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবিহীন এবং স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ।