উদ্দীপকের যৌগগুলোর অপরিমিত ব্যবহার মানব স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
NH4 দ্রবণ অর্থাৎ NH4OH শ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয় এবং গলায় ক্ষত সৃষ্টি হয় বা পুড়ে যায়। এটি হতে NH3 গ্যাস ফুসফুসে প্রবেশ করলে ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত NH4OH মাটি ও পানিতে প্রবেশ করলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের যথেষ্ট ক্ষতিসাধন হয়।
গাঢ় H2SO4 বাষ্প মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। এটি ফুসফুসে প্রবেশ করলে ব্রঙ্কাইটিস রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি মাটি ও পানিতে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রবেশ করলে মাটির pH মানকে হ্রাস করে উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবন ও বৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
KMnO4 ক্ষয়কারক ও বিষাক্ত উপাদান। ত্বকের সংস্পর্শে এসে ক্ষতের সৃষ্টি করে। পেটে গেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এর প্রভাবে কিডনি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। KMnO4 পানিতে দ্রবীভূত হলে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণির বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। মাটিতে পড়লে মাটির উর্বরতা শক্তির হ্রাস ঘটায় ও অণুজীব ধ্বংস করে।
LiAlH4 পানির সংস্পর্শে বিস্ফোরণসহ বিক্রিয়া করে থাকে। এটি মারাত্মক ক্ষয়কারক। হাত ও ত্বকের চামড়ার উপর পড়লে তা ক্ষয় করে। আগুনের সংস্পর্শে মারাত্মক দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে। পরিবেশের ক্ষতি করে এরূপ রাসায়নিক উপাদানের অন্যতমের মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত। উপরের আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান যে, উদ্দীপকের যৌগগুলোর অপরিমিত ব্যবহার মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।