উদ্দীপকের প্রথম আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর এবং দ্বিতীয় আবরণটি হলো প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি। নিচে এদের পৃথক হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
একটি উদ্ভিদ কোষ অপেক্ষাকৃত শক্ত জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে, যাকে বলা হয় কোষ প্রাচীর । উদ্ভিদ কোষের মধ্য পর্দা এবং কোষঝিলের মাঝখানে জড় প্রাচীরের অবস্থান হয়। এককোষী উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়াতে কোষঝিলের বাইরে জড় প্রাচীরটির অবস্থান থাকে। কোষ প্রাচীর প্যাকটিক এসিড ক্যালসিয়াম পেকটেট এবং ম্যাগনেসিয়াম লবণ দিয়ে গঠিত হয় এছাড়াও তাতে অল্প পরিমাণে প্রোটোপেকটিন থাকে।
কোষ ঝিল্লি একটি সেলের অংশ যা সেলটির বাইরের সীমা দেওয়া থাকে। এটি সেলটির রক্ষা করে, সেলের অবস্থান স্থাপন করে। কোষ ঝিল্লি সেলটির প্রাচীর এবং সেলের অত্যন্ত দুর্বল অংশের সুরক্ষা ও ভিত্তি প্রদান করে। এটি সেলের অভ্যন্তরীণ সংযোগ প্রদান করে ।
প্রতিটি উদ্ভিদ কোষ সাধারণত বাইরের দিকে একটি নির্জীব জড় আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লীর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরুপ-
১। কোষ প্রাচীর কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে।
২। কোষ প্রাচীর বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর কোষ এর আভ্যন্তরীণ সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রাখে।
৩। কোষ প্রাচীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বাইরের সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
৪। কোষ প্রাচীর কোষের ভেতরে ও বাইরে পানি ও খনিজ লবণ যাতায়াত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লী কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে (ভেদ্য, অভেদ্য বা অর্ধভেদ্য হিসেবে)।
৫। কোষ প্রাচীরের কোষগুলোকে পরস্পর থেকে পৃথক রাখে। অন্যদিকে কোষ ঝিল্লীর বিভিন্ন বৃহদাণু সংশ্লেষ করতে পারে।