উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব এসিড দুটি হলো DNA এবং RNA। জীবের বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ সম্পূর্ণরূপে DNA ও RNA-এর উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
DNA:
১.. DNA মূলত ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিয়িক এসিড যা একটি রাসায়নিক জৈব যৌগ। DNA জীবদেহের সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
২. অনুলিপন প্রক্রিয়ায় জীবের জাতিসত্ত্বা অটুট রাখে। এছাড়া DNA প্রজাতি শনাক্তকরণেও ভূমিকা রাখে এবং বংশগতি বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
৩. DNA অণুর মাধ্যমে বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পিতা-মাতা থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। এ কারণে DNA কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয়।
৪. বংশগতি বস্তুর প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোসোম। এ ক্রোমোসোমে রয়েছে DNA যেখানে জিনগুলো সুসজ্জিত থাকে। জিন হলো ক্রোমোসোমে বিদ্যমান DNA অণুর এমন একটি অংশ যা কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতে সক্ষম।
৫. বিভিন্ন বিজ্ঞানীর পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, DNA এর অংশ বিশেষই জিন হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ DNA-ই জিন। জিনই হচ্ছে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক যা পর্যায়ক্রমে বাহ্যিক চরিত্রসমূহ ফুটিয়ে তোলে।
RNA: RNA প্রধানত DNA এর কাজে সহায়তা করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। তবে কিছু ভাইরাস ও অনুরূপ নিম্নশ্রেণির জীবে DNA পাওয়া যায় না এসব ক্ষেত্রে RNA বিদ্যমান থাকে। ফলে RNA উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্য শনাক্তকরণে ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। এরা উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এসব RNA কে জেনেটিক RNA বা gRNA বলে। যেসব দেহে gRNA থাকে, তাদের DNA থাকে না (যেমন- TMV, HIV)।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, DNA ও RNA উভয়ই জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।