উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত সার্বজনীন অঙ্গাণু, যার কোনো আবরণী নেই, সেটি হলো রাইবোজোম। রাইবোজোম সম্পর্কে মন্তব্যটির তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
রাইবোসোম হলো একটি ঝিল্লিবিহীন, গোলাকার বা ডিম্বাকার কোষীয় অঙ্গাণু, যা প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়। এটি সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়, অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন কিংবা মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থান করতে পারে। অনেক রাইবোসোম mRNA সূত্রে যুক্ত হয়ে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম গঠন করে। রাইবোসোম প্রধানত rRNA ও. প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং দুটি অসম সাব-ইউনিট নিয়ে তৈরি। কোষভেদে রাইবোসোম দুই ধরনের হয়। যথা- ৭০ ১ হচ্ছে আদিকোষে (যার উপ-একক হলো ৫০ ৪ ও ৩০ ৪) এবং ৮০ ১ হলো প্রকৃতকোষে (যার উপ-একক হলো ৬০১ ও ৪০১)। রাইবোসোমে RNA ও প্রোটিন ছাড়াও সামান্য পরিমাণে Mg, Ca ও Mn আয়ন থাকে।
রাইবোজোমকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলার মূল কারণ হলো এটি প্রোক্যারিওটিক এবং ইউক্যারিওটিক উভয় ধরনের কোষে, অর্থাৎ সকল সজীব কোষে উপস্থিত থাকে। রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ। প্রোটিন জীবনের সকল জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। যেহেতু সকল জীবকোষের প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তাই রাইবোজোম সকল কোষে বিদ্যমান।
অতএব, রাইবোসোম একটি সার্বজনীন ও অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গাণু, যা জীবকোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।