উদ্দীপকে কোষপ্রাচীর ও কোষঝিল্লির কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কাজে এদের ভূমিকা রয়েছে।
প্রতিটি উদ্ভিদকোষ একটি অপেক্ষাকৃত শক্ত ও জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। এ জড় ও শক্ত আবরণকে কোষ প্রাচীর বলে। কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কোষ প্রাচীরের কাজ: (1) কোষের সুনির্দিষ্ট আকৃতি দান করা। (।।) বাইরের আঘাত হতে ভেতরের সজীব বস্তুকে রক্ষা করা; (iii) প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করা। (iv) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণে সহায়তা করা; (v) এক কোষকে অন্য কোন হতে পৃথক করা: (১৮) কোষ প্রাচীরের কূপ এলাকা (ছিদ্র পথ) দিয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু কোষের ভেতরে বা বাইরে চলাচল করে থাকে এবং (৬১) বহিঃ ও অগ্র উদ্দীপনার পরিবাহকরূপে প্লাজমোডেসমাটা কাজ করে।
প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) হলো কোষের অভ্যন্তরের অর্ধস্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল, কলয়ডালধর্মী সব্জীব পদার্থকে প্রোটোপ্লাজম বলে।
বিজ্ঞানী হাক্সলে (Huxley)-এর মতে প্রোটোপ্লাজম হচ্ছে জীবনের ভৌত ভিত্তি। কারণ প্রোটোপ্লাজমই কোষের তথা দেহের সকল মৌলিক জৈবিক কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। এ জন্যই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে (৭০% - ৯০% পানি থাকে।
কোষঝিল্লির কাজ:
(i) এটি কোষীয় সব বস্তুকে ঘিরে রাখে।
(ii) বাইরের প্রতিকূল অবস্থা হতে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে।
iii) কোষঝিল্লির মধ্যদিয়ে বস্তুর স্থানান্তর, ব্যাপন নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (control and coordinate) হয়। ( (iv) ঝিল্লিটি একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করে যাতে বিশেষ এনজাইম এতে বিন্যস্ত থাকতে পারে।
(v) ভেতর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে বস্তু স্থানান্তর করে।
৬(স) বিভিন্ন বৃহদাণু (macro-molecule) সংশ্লেষ করতে পারে।
(vii) বিভিন্ন রকম তথ্যের ভিত্তি (information source) হিসেবে কাজ করে।
(viii) পারস্পরিক বন্ধন, বৃদ্ধি ও চলন ইত্যাদি কাজেও এর ভূমিকা আছে।
(ix) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল বস্তু গ্রহণ করে।
( x) এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।
(xi) কোষের বাইরে থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন ইত্যাদি রূপে তথ্য সংগ্রহ করে।
( xii) স্নায়ু উদ্দীপনা সংবহন করে।
(xiii) ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোসোম সৃষ্টি করে যা শক্তি উৎপাদন করে। (xiv) গ্লাইকোক্যালিক্স কোষের চিহ্নিত (recognizer) হিসেবে কাজ করে।