উদ্দীপকে মাইটোকন্ড্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদের প্রতিটি জীবন্ত কোষেই দিন-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসনকার্য চলতে থাকে। কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গাণু।শ্বসনের সবগুলো ধাপ (গ্লাইকোলাইসিস ব্যাতীত) মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি।সকল সজীব উদ্ভিদকোষে (এবং সকল সজীব প্রাণিকোষে) প্রতিনিয়ত অব্যাহতভাবে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যার জন্য শক্তির দরকার হয়।এছাড়াও কোষের শক্তির প্রয়োজন হয়: বড় জৈব অণু, যেমন DNA, RNA, প্রোটিন ইত্যাদি সংশ্লেষ করা। সক্রিয় ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়ায় জৈব অণু বা আয়ন মেমব্রেনের মধ্যদিয়ে আদান-প্রদান করা।এসব ক্রিয়া বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আসে জৈবযৌগ ভাঙ্গনের মাধ্যমে। ATP কখনও এক কোষ থেকে অন্যকোষে স্থানান্তরিত হতে পারে না, অথচ সকল কোষের জন্যই নিরবচ্ছিন্ন ATP সরবরাহ প্রয়োজন। এ কারণে প্রতিটি সজীব কোষেই শ্বসন গুরুত্বপূর্ণ।
যে কোনো জীবের জীবনে শ্বসনের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্ভিদ বা প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষেই শ্বসন প্রক্রিয়া
অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া মানেই জীব বা সেই জীব কোষের মৃত্যু হওয়া। নিচে উদ্ভিদ জীবনে শ্বসনের গুরুত্ব সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।
১। জীবের দেহে শক্তি সরবরাহ। জীবের প্রতিটি প্রক্রিয়া (যা জীবনের বৈশিষ্ট্য) পরিচালনার জন্য শক্তির প্রয়োজন, আর এ শক্তি আসে শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কাজেই শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে জীবের সকল জৈবিক প্রক্রিয়া পরিচালিত করার মধ্যেই রয়েছে যে কোনো জীবের জীবনে শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রকৃত গুরুত্ব।
২। খাদ্য প্রস্তুত। শ্বসন প্রক্রিয়ায় নির্গত CO₂ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্য উৎপন্ন করে। সে খাদ্য যেমন উদ্ভিদ জীবনকে রক্ষা করে, তেমনই আবার সমগ্র প্রাণী জগতকেও রক্ষা করে।
৩। খনিজ লবণ পরিশোষণ: উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশোষণে শ্বসন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের হার কম হলে লবণ পরিশোষণ হার কমে যায় এবং বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
৪। কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধি: শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাব কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার উপরও প্রতিফলিত হয়। কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে।
৫। তাপমাত্রা রক্ষা। শ্বসনে সৃষ্ট তাপ জীবদেহের প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় থাকে।
৬। এনজাইম ও জৈব অ্যাসিড উৎপাদন: এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব অ্যাসিড সৃষ্টিতে সহায়তা করার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমেও সহায়তা করে।
৭। বায়ুমণ্ডলে CO₂ ও O₂ এর ভারসাম্য রক্ষা। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল হতে CO₂ গৃহীত হয় এবং ০₂ বর্জিত হয় কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল হতে ০₂ গৃহীত হয় এবং CO₂ বর্জিত হয়, তাই বায়ুমণ্ডলে CO₂ ও ০₂ এর ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
৮। শিল্পে ব্যবহার: বিভিন্ন অণুজীবের অবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যালকোহল, মদ, সিরকা, আচার, মাছ ও মাংসের সস ইত্যাদি উৎপাদন শিল্প প্রতিষ্ঠান।
দ্বিতীয় অংশের অঙ্গাণুটি অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়া জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।