জীবদেহে জিন-এর প্রকাশের জন্য প্রয়োজন DNA-এর জিন অংশ থেকে RNA (mRNA) সৃষ্টি করা, যাকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন, এবং mRNA থেকে পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন সৃষ্টি করা, যাকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। RNA নির্দেশিত পথে পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রক্রিয়াই হলো ট্রান্সলেশন। DNA থেকে তথ্য বা নির্দেশ 'কপি' করে থাকে mRNA । DNA এর ভাষাকে RNA এর মাধ্যমে প্রোটিনের ভাষায় রূপান্তরিত করাকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। ট্রান্সলেশন রাইবোসোমে সংঘটিত হয়।
i) mRNA যা DNA থেকে জেনেটিক কোড বহন করে নিয়ে আসে। এটি প্রোটিন সংশ্লেষণের ছাঁচরূপে ব্যবহৃত হয়।
ii) tRNA যা সুনির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করে আনে। প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য কমপক্ষে একটি tRNA থাকে। tRNA অণু খুবই ছোট। এতে ৭৫-৮০টি নিউক্লিয়োটাইড থাকে। tRNA-এর ৩ প্রান্তে অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির জন্য কোডন থাকে এবং মাঝামাঝি অবস্থায় বিপরীত দিকে mRNA-এর সাথে সংযুক্তির জন্য ৩ বেস-এর একটি অ্যান্টিকোডন থাকে
iii) অ্যামিনো অ্যাসিড সাধারণত বিশ প্রকার। বিশ প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য ৬১ প্রকার কোডন থাকে।
iv) রাইবোসোম হলো tRNA বসার মঞ্চ। প্রতিটি রাইবোসোমে tRNA বসার জন্য দুটি স্থান থাকে, A-স্থান এবং P-স্থান। একটি রাইবোসোম যে কোনো mRNA-র সাথে এবং সকল tRNA-র সাথে সংযুক্ত হতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য, একটি ATP-এর জন্য এবং একটি নির্দিষ্ট tRNA-এর জন্য। এনজাইম প্রথমে অ্যামিনো অ্যাসিড (AA) ও ATP এর সাথে ক্রিয়া করে AA-AMP bond তৈরি করে এবং পাইরুফসফেট বের হয়ে যায়। এরপর এটি tRNA এর সাথে যুক্ত হয়। দুটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে পেপটাইড বন্ড সৃষ্টির শক্তি এ পর্যায় থেকেই আসে। এনজাইমে tRNA-এর সাথে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির পর AMP বের হয়ে যায় এবং পরে এনজাইম যুক্ত হয়।
সুতরাং একথা নির্দ্য় বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি ট্রান্সলেশন এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য mRNA ও tRNA ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।