উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র-Q কোষ বিভাজনের ধাপটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। নিচে মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
কোষের গঠন, গুণাবলি সংরক্ষণ ও জীবন প্রবাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে মায়োসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। যদি মিয়োসিস বিভাজন না হতো তবে প্রতি প্রজন্মে যৌন জননের সময় ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত। ফলে সাইটোপ্লাজম ও ক্রোমোসোমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হতো। জীবদেহের আয়তন বৃদ্ধি পেত ও বিপর্যয় ঘটত। মিয়োসিস বিভাজনে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহখণ্ডের বিনিময়ের মাধ্যমে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্যের পুণর্বিন্যাস ঘটে। ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে প্রজাতিতে জৈব বিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়ের সূচনা ঘটে। যৌন জনন ক্ষমতাসম্পন্ন জীবের জীবনচক্রে স্পোরোফাইটিক জনু (2n) ও গ্যামিটোফাইটিক জনু (n) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। মায়োসিসের মাধ্যমে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয় বলেই দুটি জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে। উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ ডিপ্লয়েড (2n)। তাই গ্যামিট সৃষ্টির সময় মায়োসিস কোষবিভাজন অত্যাবশ্যক। নতুবা ডিপ্লয়েড গ্যামিট সৃষ্টি হতো। এর ফলে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য নষ্ট হতো এবং জীবের ধারাবাহিকতা বিনষ্ট হতো। এছাড়াও মায়োসিস বিভাজন দ্বারা মেন্ডেলবাদ ও আপাত ব্যতিক্রমগুলো ব্যাখ্যা করা যায়। ক্রসিং ওভারের হার নির্ণয় করে ক্রোমোসোম ম্যাপ তৈরি করা যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র-Q অর্থাৎ মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব অপরিসীম।