উদ্দীপকে মূলত পারমাণবিক রেখা বর্ণালীর উল্লেখ করা হয়েছে। পারমাণবিক রেখা বর্ণালীর সাহায্যে মৌল সনাক্ত করা যায়। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
কোন মৌলকে নিম্নচাপে রেখে তাপ বা বিদ্যুৎক্ষরণ দ্বারা উদ্দীপিত করলে, ঐ মৌলের ইলেকট্রনগুলো শক্তি শোষণ করে নিম্ন শক্তির অরবিটাল হতে উচ্চ শক্তির অরবিটালে গমন করে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ইলেকট্রনগুলো শক্তি বিকিরণ করে নিম্নশক্তির অরবিটালে নেমে আসে। এ বিকীর্ণশক্তিকে বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বিশ্লেষণ করলে যন্ত্রের ফটোগ্রাফিক প্লেটে বিভিন্ন রঙিন বা বর্ণহীন রেখার সমাহার পাওয়া যায়। এ রেখার সমাহারই মূলত রেখা বর্ণালী বা পারমাণবিক বর্ণালী। আদর্শ রেখা বর্ণালী সৃষ্টির জন্য Ru পাউডার ব্যবহার করা হয়। Ru পাউডারে প্রায় ৫০টি মৌল থাকে এবং এ পাউডার থেকে সৃষ্ট বর্ণালীতে বিভিন্ন মৌলের জন্য নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রেখা থাকে।
কোন অজ্ঞাত মৌল বা নমুনাকে উদ্দীপিত করে বর্ণালী সৃষ্ট করলে বর্ণালীতে অসংখ্য রেখার উৎপত্তি হয়। বর্ণালীতে সৃষ্ট কিছু উজ্জ্বল রেখার কোন পরিবর্তন হয় না, এধরনের রেখাকে নাছোড় রেখা বলে। এ নাছোড় রেখার নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকে এবং এ রেখাকে আদর্শ পারমাণবিক রেখা বর্ণালীর সাথে তুলনা করে মৌল সনাক্ত করা হয়। যেমন- সোডিয়াম ধাতুকে নিম্নচাপে কাঁচ পাত্রে, সংরক্ষণ করে তার ভেতর তড়িৎক্ষরণ করলে হলুদ বর্ণের আলো বিকিরিত হয়। এ হলুদ বর্ণের আলোককে বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রে বিশ্লেষণ করলে সবুজ বর্ণের একটি উজ্জ্বল রেখা বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের ফটোগ্রাফিক প্লেটে দৃশ্যমান হয়। সবুজ বর্ণের এ রেখা দ্বারা এভাবে সোডিয়াম ধাতু সনাক্ত করা হয়।