উদ্দীপকের 'ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ' 'বিলাসী' গল্পে দেখানো হয়েছে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে মিত্তির বংশের মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত খাওয়ানোর অর্থাৎ অন্নপাপের মধ্য দিয়ে।
'বিলাসী' গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে হওয়ায় তার রান্না করা ভাত উচ্চ. জাতের কেউ খেতে পারবে না। এতে অন্নপাপ হয় বলেই সমাজের মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খেয়েছে। এজন্য মৃত্যুঞ্জয়ের জাত গেছে ও মিত্তির বংশের নাম ডুবেছে বলে জ্ঞাতি খুড়া গ্রামময় প্রচার করে। তৎকালীন সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এতে ভয়ানক অপরাধ হয়েছে বলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হয়।
উদ্দীপকে সৌদামিনী মালোকে ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপের কথা বলে তার ওপর জুলুম করা হয়। সে ব্রাহ্মণের জাত মেরেছে বলে প্রচার করে মনোরঞ্জন মালো। পূর্বশত্রুতার জেরে মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীর বিরুদ্ধে গোটা সমাজকে খেপিয়ে তোলে। সমাজের মানুষও এতটাই অন্ধবিশ্বাসী যে তারা মনোরঞ্জন মালোর কথায় প্রভাবিত হয়ে সৌদামিনীর ওপর জুলুম চালায় ।
'বিলাসী' গল্পে বিলাসীর ওপরও ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ পাপ কথাটির প্রয়োগ করা হয় অন্নপাপ করার অভিযোগের ভেতর দিয়ে। সে সাপুড়ের মেয়ে হয়ে উচ্চবংশীয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রেঁধে খাইয়ে যেন অপরাধ করেছে। কঠিন অসুখে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন বিলাসীর মতো মানবিক মেয়ে রাত-দিন তার পাশে ছিল । তার অক্লান্ত সেবা-শুশ্রুষা ও রাতজেগে সেবার পর মৃত্যুঞ্জয় সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই দুর্দিনে গাঁয়ের কেউ এসে খোঁজ নেয়নি, উদ্যোগ নেয়নি ভালো চিকিৎসার। কিন্তু চক্রান্তকারী লোভী খুড়ার প্ররোচনায় সবাই অন্নপাপের অপবাদে একজোটহয়ে আক্রমণ করে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে জাতে ওঠে। তাই তারা বিলাসীকে নির্যাতন করে মৃত্যুঞ্জয়ের বা দেয়। বিলাসী তাদেরকে বলার চেষ্টা করে যে, সে মৃত স্ত্রী। তবুও অন্নপাপের ভয়ানক শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজের অজুহ ওপর জুলুম করে । বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ভাত রান্না করে ভয়ানক শাস্ত্র-বিরুদ্ধ পাপ বলে গণ্য হয়। উদ্দীপকে ে এমন পাপকে অত্যধিক গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।