• প্রথাবিরুদ্ধভাবে উদ্দীপকের সমর-আলতার বিয়ে এবং বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের বিয়ের মধ্য দিয়ে মূলত মানবিকতারই জয় ঘোষিত হয়েছে, যা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ প্রতিপন্ন করে।
• একসময় আমাদের সমাজ ধর্ম ও জাতির নামে নানা ভাগ-উপভাগে বিভক্ত ছিল। মানবিকতাশূন্য সেই সমাজে ভেদ-বৈষম্য এত প্রকট ছিল যে, মানবিক সম্পর্কের কোনো মূল্যই ছিল না সেখানে। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ প্রথাবিরুদ্ধভাবে এসব ভেদ-বৈষম্যের উর্ধ্বে মানবিকতাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
• উদ্দীপকে সমর নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। পোস্টমাস্টার হিসেবে চাকরির সুবাদে গ্রামে এলে সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় পাশের বাড়ির নিম্নবর্ণের মেয়ে আলতা তার সেবা-শুশ্রুষার দায়িত্ব নেয়, ডাক্তার ডেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তার আন্তরিক সেবাযত্নে ধীরে ধীরে সমর সুস্থ হয়ে ওঠে। তার আন্তরিকতা ও গুণে মুগ্ধ হয়ে অনেকটা প্রথাবিরুদ্ধভাবেই সে আলতাকে বিয়ে করে নেয়, যার মধ্য দিয়ে ভেদ-বৈষম্যের ঊর্ধ্বে মানবিকতার জয় হয়।
• 'বিলাসী' গল্পের তৎকালীন সামন্তবাদী সমাজ বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে মূল্য তো দেয়ইনি বরং সাপুড়ের মেয়ে বলে বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে পাপ বলে গণ্য করেছে। তা সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করেছে এবং তার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছে। একইভাবে উদ্দীপকের সমরও নিম্নবর্ণের মেয়ে আলতার আন্তরিকতা এবং গুণে মুগ্ধ হয়ে প্রথাবিরুদ্ধভাবেই তাকে বিয়ে করে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয় এবং সমর-আলতার বিয়ের মধ্য দিয়ে সমাজিক বিভেদের বিরুদ্ধে মানবিকতার জয় ঘোষিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।