• "কাহিনিগত বৈসাদৃশ্য থাকলেও অনুচ্ছেদ এবং 'বিলাসী' গল্পের সারকথা অভিন্ন"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• স্বার্থপর ও নীচ প্রকৃতির মানুষেরা অন্যের খ্যাতিতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে পড়ে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা নিরপরাধ মানুষকে অন্যায় অপবাদ দিয়ে তাদের সর্বনাশ করে দেয়।
• অনুচ্ছেদের ঘটনায় মিহিরের স্ত্রী খনা গণনার সমস্যা সমাধান করে রাজা বিক্রমাদিত্যের সুনজরে পড়েন। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতেন বলে রাজা তাকে 'দশম রত্ন' হিসেবে আখ্যা দেন। এতে তার শ্বশুর বরাহ লজ্জিত হয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মিহিরকে দিয়ে তার জিহ্বা কেটে দেয়। এমন করে নিরপরাধ মানুষের সঙ্গে নির্মম আচরণ আমরা 'বিলাসী' গল্পেও দেখি। এই গল্পে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে বিয়ে করলে তার স্বার্থপর জ্ঞাতি খুড়া তা মেনে নেয়নি। নীচু জাতের মেয়ে বিলাসীর হাতে খাবার খেয়েছে বলে মৃত্যুঞ্জয়কে সে গ্রামছাড়া করে। আর বিলাসীর ওপরও অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়।
• 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর ওপর মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার অমানবিক ও স্বার্থপর আচরণ লক্ষ করা যায়। খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখল করার জন্য অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের দুজনের ওপর গ্রামবাসীকে লেলিয়ে দিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করেছে। এভাবে এই গল্পে সমাজের অনুদারতা, রক্ষণশীলতা ও জীবনের নিষ্ঠুর ও অশুভ চেহারা ফুটে উঠেছে, যা অনুচ্ছেদের ঘটনায়ও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।