“পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পের বিষয়বস্তু একই বাস্তবতাকে ধারণ করেছে।”— উক্তিটি যথার্থ।
• মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে তোলে । অথচ সমাজ তা মানতে নারাজ । কারণ তারা মানুষকে জাত-ভেদ, ধর্ম-বর্ণ দিয়ে বিভক্ত করে। এসব কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ।
• উদ্দীপকের আরিফ গৃহকর্মীর ছেলে হওয়ায় ধনী ব্যবসায়ী বাবা তার ছেলে আসিফের সঙ্গে আরিফকে মেলামেশা করতে দেয়নি ৷ আরিফকে তিনি বাসায় আসতে নিষেধ করেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এই আরিফই ডেঙ্গু আক্রান্ত সংকটাপন্ন বন্ধু আসিফকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে। পরিবেশ ও সময়ের ভিন্নতা থাকলেও উদ্দীপকের অনুরূপ ঘটনা 'বিলাসী' গল্পেও ফুটে উঠেছে। এই গল্পে জাতিভেদ, বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি সামাজিক অসংগতির পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে। এখানে মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে মেয়ে বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্ৰূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তার প্রতিদানে মৃত্যুঞ্জয় তাকে বিয়ে করে তার হাতে ভাত খায় । কিন্তু তৎকালীন সমাজ তা মেনে নেয়নি। নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে করা ও তার হাতে ভাত খাওয়াকে সমাজ অন্নপাপ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের ওপর চড়াও হয়। জ্ঞাতি খুড়া সমাজের মানুষকে নিয়ে বিলাসীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় ।
• 'বিলাসী' গল্পে সমাজ মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর বিয়ে করা ও একসাথে অবস্থান করাকে অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করেছে। অথচ বিলাসী রাত-দিন, রাত জেগে সেবা-যত্ন করে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তুলেছে। বিনিময়ে সে পেয়েছে সমাজের নির্মম নির্যাতন ও অপবাদ । গল্পের এই সমাজ বাস্তবতাই উদ্দীপকের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।