কেবল জাতিভেদের দিকটি তুলে ধরায় উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'বিলাসী' গল্পে গল্পকার বর্ণপ্রথার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। সেখানে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের মানবিক প্রেমের সম্পর্কও সেই সমাজের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে বারবার। সংকীর্ণ সেই সমাজ তাদের সম্পর্ককে মেনে নেয়নি, উপরন্তু অন্নপাপের দোহাই দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করেছে।
উদ্দীপকে জাতিভেদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্ম আলাদা হলেও সবার পরিচয় একটাই, আর তা হলো- তারা সবাই মানুষ। কারণ জাতিভেদ সৃষ্টি করা হলেও জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই। 'বিলাসী' গল্পে জাতিভেদের এই রূপটিই স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকলে বিলাসী সেবা-যত্ন করে তাকে সুস্থ করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজ এই বিয়ে মেনে নিতে পারে না। কারণ বিলাসী নিচু জাতের সামান্য সাপুড়ের মেয়ে। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টি উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও 'বিলাসী' 'গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার ষড়যন্ত্র, মৃত্যুঞ্জয়ের সমাজ ছেড়ে চলে যাওয়া, গ্রামবাসীর অমানবিকতা, মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়ে জীবন, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু, স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাসীর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকে ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলা হয়েছে। এখানে জন্ম-মৃত্যুর কাছে সবাই সমান এ কথা বলা হয়েছে। 'বিলাসী' গল্পে জাতিভেদের রূপটি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও এ গল্পের বড় শিক্ষা 'হলো অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও মানবিক হওয়া। তবে গল্পের অন্যান্য বিষয় যেমন- তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজের নানা অসংগতি ইত্যাদি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের আংশিক ভাব ধারণ করেছে।