উদ্দীপকের মনোরঞ্জন মালো ও 'বিলাসী' গল্পের খুড়া একে অন্যের প্রতিচ্ছবি। সৌদামিনী মালো তার স্বামীর মৃত্যুর পর বসতবাড়ি, পুকুরসহ বেশ কয়েক একর জমির মালিক হয়। এ সম্পত্তির ওপর নজর পড়ে সৌদামিনীর জ্ঞাতি দেবর মনোরঞ্জন মালোর।
অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তির ওপর কু-নজর পড়ে তার এক জ্ঞাতি খুড়ার। সে ছলে-বলে-কৌশলে মৃত্যুঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলে নিতে চায়। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যেই অন্যের সম্পত্তি হস্তগত করার একটা মানসিকতা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
মনোরঞ্জন মালো সৌদামিনীকে সমাজচ্যুত করার লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। সে বলে বেড়াচ্ছে যে নমশূদ্রের ঘরে ব্রাহ্মণ সন্তান পালিত হচ্ছে। এ যে মহাপাপ, হিন্দু সমাজের জাত-ধর্ম সব শেষ হয়ে গেল। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর মৃত্যুর পর এই বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল যে মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থের ছেলে হয়ে সাপুড়ে মেয়েকে বিয়ে করছে। এমনকি তার হাতে ভাত পর্যন্ত খেয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া একে অন্নপাপ বলতে পিছপা হয়নি।
সুতরাং আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে বলা যায়, মনোরঞ্জন যেন 'বিলাসী' গল্পের খুড়ারই প্রতিচ্ছবি।