“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।
'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর সঙ্গে উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসার অনন্যসাধারণ কাহিনি উঠে এসেছে। পাশাপাশি গল্পটিতে তাদের অসমবর্ণ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের আগ্রাসী রূপটিও ফুটে উঠেছে। গল্পটিতে বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ কাহিনির মধ্যদিয়ে তৎকালীন বর্ণবাদী সমাজের ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত হয়েছে ।
উদ্দীপকে করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়। আলোচ্য 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রটিও গভীর ভালোবাসার শক্তিতে বলীয়ান হয়েই'সমাজবাস্তবতার বিরুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেবা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছে।
এসকল বিষয়ে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, বিলাসী গল্পের বিলাসী ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল তার প্রেমের টানে, আর উদ্দীপকের পারুল আক্তার তার ভালোবাসার মানুষের সেবা করেছিল প্রয়োজনের তাড়নায়। বিলাসী গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ভালোবেসে জাত ধর্ম ত্যাগ করে বিলাসীর কাছে এসেছিল, কিন্তু উদ্দীপকে তেমন কিছু হয় নি।
তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থ।