"উদ্দীপকের ভাববস্তু ও 'বিলাসী' গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
হিন্দু সমাজব্যবস্থায় জাতভেদ প্রথা প্রবল। তারা জাতিভেদের নামে সমাজে এক নির্মম প্রথা চালু করে রেখেছে। উঁচু জাতের হিন্দুর সাথে নিচু জাতের হিন্দুর প্রণয় সমাজ কখনই মেনে নেয় না। আসলে সমাজের এই ব্যবস্থা মানবতাবিরোধী।
'বিলাসী' গল্পটি হিন্দু সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে এক শ্লেষাত্মক আখ্যান। গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়, যে কায়স্থের ছেলে। সে যখন একা ঘরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল তখন এক সাপুড়ের কন্যা বিলাসী তাকে সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। এরপর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করে, আর তখনই বিপত্তি বাধে। উঁচু জাতের ছেলে হয়ে নিচু জাতের এক সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করে বলে সমাজ তাকে হেয় করে। তখন সে বিলাসীর সঙ্গে অন্য জায়গায় চলে যায়। যখন তার সাহায্য প্রয়োজন ছিল তখন সমাজ ছিল নির্বিকার আর বিয়ের, বেলায় জাতপ্রথা। আসলে গল্পকার এই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে সমাজের ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করেছেন।
উদ্দীপকেও এমনই এক ভাববস্তু প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা যায় ব্রাহ্মণ রাজন নিচু জাতের স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করার দরুন সমাজ তার পরিবারকে একঘরে করে দেয়। উদ্দীপকেও সমাজে প্রচলিত ঘৃণ্য প্রথার রূপ উন্মোচন করা হয়েছে। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাববস্তু ও 'বিলাসী' গল্পের প্রেক্ষাপট অভিন্ন নয়।