• "পাকিস্তানিরা সিচুয়েশন নর্মাল বললেও বাঙালিরা সেটিকে পাত্তা না দিয়ে যুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করার নিরন্তর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক-শোষকেরা সব দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করার ফলে এদেশের মানুষ তা মুখ বুজে সহ্য করেনি। এদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ শোষকদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
• উদ্দীপকের ঘটনায় দেখা যায়, পাকিস্তানি কর্তারা রেডিও-টিভিতে বিখ্যাত ও পদস্থ ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে প্রোগ্রাম করিয়েও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। ফলে তারা বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের ধরে নিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদেরকে দিয়ে খবরের কাগজে বিবৃতি দেওয়াচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাণের ভয়ে নিরুপায় হয়েই এ কাজটি করছে। 'রেইনকোট' গল্পেও রেডিও-টেলিভিশনে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক উল্লেখ করে বিবৃতি দেওয়াতে দেখা যায়, যদিও দেশের পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক ছিল না।
• 'রেইনকোট' গল্পে দেশের স্বাধীনতার জন্য এদেশের মুক্তিকামী মানুষের নিরন্তর প্রচেষ্টার অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যায়। নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টু দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। ঢাকার গেরিলা বাহিনী সুকৌশলে মিলিটারি ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানে গ্রেনেড ফেলেছে। কৌশলে কুলির ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা এর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে নুরুল হুদাও তাদের সহায়তাকারীদের একজন। তিনি অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সেইজন্য উল্লিখিত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্ন প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।